জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই, কারণ এটি সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জরুরিতার পরিচায়ক।
প্রকল্পের বিস্তৃতি ও সম্ভাবনা
অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও স্থানীয় সরকার সেবা খাতে এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘদিনের সেবা প্রদানের ফাঁক পূরণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অনুমোদন শুধু শুরু; বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা, যেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন গল্প প্রায়ই হোঁচট খায়।
পরিচিত সমস্যার পুনরাবৃত্তি
অনুমোদিত তালিকায় একাধিক সংশোধিত প্রকল্প ও সময় বাড়ানোর ঘটনা দেখা গেছে। কিছু প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে, যার কারণ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি সতর্কতার সংকেত। বিলম্ব ব্যয় বাড়ায়, জনগণের আস্থা নষ্ট করে এবং প্রকল্পের সুফল কমিয়ে দেয়।
আর্থিক কাঠামো ও ঝুঁকি
প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। অদক্ষতা শুধু সম্পদ নষ্ট করবে না, ভবিষ্যতে রাজস্ব চাপও বাড়াবে। ব্যয়বৃদ্ধি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যা উন্নয়নকে বিনিয়োগের পরিবর্তে দায়িত্বে পরিণত করতে পারে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন জরুরি
প্রকল্প পরিচালনায় এখন কঠোর পরিবর্তন প্রয়োজন। সম্ভাব্যতা যাচাই কঠোরভাবে করতে হবে। ক্রয় প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে এবং রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সময়সীমাকে বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি হিসেবে গণ্য করতে হবে, যা আমরা ইতিহাসে প্রায়ই রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি।
জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
প্রতি সংশোধন, সময় বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দ্রুত পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় আসা উচিত। অদক্ষতার পরিণতি না থাকলে বিলম্ব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গির অভাব নেই; বাস্তবায়নে শৃঙ্খলার অভাবই প্রধান সমস্যা।
এই নতুন প্রকল্পগুলো সফল করতে হলে ফলাফলের দিকে নজর দিতে হবে—সময়মতো, বাজেটের মধ্যে এবং কোনো আপস ছাড়া।



