সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবদীন গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যরা শুধু বলছেন ৫১ পার্সেন্ট, ৫১ পার্সেন্ট, ৫১ পার্সেন্ট—তাহলে ৭০ পার্সেন্ট কী? যদি ৫১ পার্সেন্ট হয় সেকেন্ড ডিভিশন, তবে ৭০ পার্সেন্ট হচ্ছে ফার্স্ট ডিভিশন। ফার্স্ট ডিভিশনকে ইগনোর করে কি সেকেন্ড ডিভিশনকে গ্রহণ করা যায়?’
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় দাঁড়িয়ে এ কথা বলেন রাজধানীর শ্যামপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন।
গণভোট ও নির্বাচনের প্রসঙ্গ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বা জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে পড়ে। জামায়াত নেতারা বলে আসছেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জয়নুল আবদীন বলেন, ‘আমরা আজ যে সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, এই সংসদ জুলাই বিপ্লবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই বিপ্লবের যে স্বপ্ন ছিল, তা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের গণভোট হয়েছে; গণভোটের ব্যাপারে আমি জানি না, আমি ছোটবেলায় অঙ্কে সব সময় 'লেটার মার্ক' পেতাম, এখন মনে হয়, সেই মার্ক ভুল ছিল কি না। আপনারা ৫১ পার্সেন্টকে গুরুত্ব দিলেন; কিন্তু ৭০ পার্সেন্টকে দেবেন না।’ ক্ষমতাসীন বিএনপির উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।
ভোটের শপথ ও সংসদের ভূমিকা
জামায়াতের এই সদস্য আরও বলেন, ‘আমি এলাকায় গিয়েছি এবং তারা প্রশ্ন তুলছে যে আমরা দুইটা ভোট দিলাম, একটা ভোটের শপথ নিলেন; কিন্তু আরেকটা ভোটের শপথ কেন নিলেন না? আপনারা যদি শপথ না-ই নিতেন, তবে এ কথা আগেই বলতেন যে আমরা শপথ নেব না।’
ত্রয়োদশ সংসদকে কার্যকর করতে জামায়াত সক্রিয় থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এই সংসদকে কার্যকর করতে চাই, আমরা এই সংসদকে দীর্ঘায়িত করতে চাই। আমরা দেখতে চাই যে এই সংসদ গতানুগতিক কোনো সংসদ হবে না। বিগত দিনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সংসদ দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভূমিকা রাখবে।’
এলাকার সমস্যা সমাধানের দাবি
ঢাকা–৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।
জয়নুল আবদীন বলেন, তাঁর এলাকায় গ্যাসের লাইন থাকলেও সরবরাহ নেই। জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের সঙ্গী। গতকালের সামান্য বৃষ্টিতে এলাকার প্রায় ৮০ ভাগ তলিয়ে গেছে। মাদকের সমস্যাও রয়েছে।
জয়নুল আবদীন আরও বলেন, ‘আমার এলাকার রাস্তাঘাটগুলো ভাঙাচোরা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত অপরিকল্পিত। আমার এলাকায় যে খালগুলো রয়েছে, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনন করার কথা আমরা শুনে আসছি; কিন্তু আজ পর্যন্ত এই খালগুলো খনন করা হচ্ছে না। এখানে বেশ কয়েকটি খাল মিলে যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলো যদি খনন করা না হয়, তবে আসন্ন বর্ষায় এই এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
শ্যামপুর–যাত্রাবাড়ী এলাকার শ্রমিকদের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই এলাকাজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রয়েছে, যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষই শ্রমিক; কিন্তু তাঁদের চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতাল নেই। ঢাকা-৪ এলাকার ভেতরে কোনো খেলার মাঠ নেই, এমনকি কোনো কমিউনিটি সেন্টারও নেই।
কিশোর গ্যাং ও নিরাপত্তা
রাজধানীতে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার দিকটি দেখিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সন্ধ্যার পর মানুষ রাস্তায় চলাফেরা করলে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে দেওয়া (ছিনতাই করা) হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে মানুষ আহত হচ্ছে।’



