জাতীয় সংসদে কাউকে ‘মোনাফেক’ বলতে পারবেন কি না, তা স্পিকারের কাছে জানতে চেয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন (টুকু)। জবাবে স্পিকার স্পষ্টভাবে জানান, ‘না, পারবেন না।’ এরপর প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা, আমি মোনাফেক বললাম না কাউকে।’
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সুলতান সালাহউদ্দিন ‘মোনাফেক’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে এই কথোপকথন করেন। তিনি কাকে ‘মোনাফেক’ বলতে চেয়েছেন, তা উল্লেখ না করলেও পরবর্তী বক্তব্যে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন বলে ফুটে ওঠে।
বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত
বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে সুলতান সালাহউদ্দিন বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে কথা হচ্ছে এই সংসদে। আইন পাস হবে, আইন পাস করার জন্যই জনগণ আমাদের পাঠিয়েছে। আইনের বিপক্ষে কথা বললে হবে? আইনের পক্ষে কথা বলতে আসুন, আইন নিয়ে কথা বলুন, উনারা বেলাইনে চলতে চায়, কোনো আপত্তি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন নিয়ে কথা হয়েছে, আমি ওই সময় জেলখানায় ছিলাম। জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক গোলাম পরওয়ার সাহেব আমার পাশের সিটেই ছিলেন। আমি ম্যাক্সিমাম সময় তাকে আমার বালিশটা দিতাম শোয়ার জন্য। আমি এরপরে যখন বের হই, টেলিভিশনে দেখলাম শিবিরের সভাপতি বলছে, উনি নাকি ওই টাইমে বাজার করেছেন। আর ছাত্রদলের সভাপতি রাস্তায় আহত হয়েছে। তাহলে জুলাই আন্দোলন নিয়ে কার কী ভূমিকা?’
আওয়ামী লীগের মতো আচরণের অভিযোগ
এটাকে আওয়ামী লীগের মতো আচরণ বলে উল্লেখ করে সুলতান সালাহউদ্দিন বলেন, ‘৭১ (মুক্তিযুদ্ধ) মনে হয় যে আওয়ামী লীগই করেছে, আর কেউ যুদ্ধ করে নাই। ইদানীং ওই রোগ তাদের ভেতরে ঢুকছে। জুলাই আন্দোলন খালি তারাই (বিরোধী দল) করছে, আর কেউ করে নাই। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন যারা করেছে, তারাই এই সংসদে সংসদ সদস্য হয়েছেন।’
নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে বিএনপির অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সুলতান সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভোটের পক্ষে কথা বলেছেন। আমরা ৫২ পারসেন্টের প্রায় অধিক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি। কাজেই (গণভোট) ৭০ ভাগের মধ্যে ৫১ ভাগ মানুষ আমাদের কথায়, আমাদের নেতার কথায় ভোট দিয়েছে, সেটা স্মরণে রাখতে হবে।’
ফ্যাসিবাদী আচরণের অভিযোগ
বিরোধী দলের কথায় আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ ঢুকে গেছে বলে মন্তব্য করেন সুলতান সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘দুই মাসের সরকার, তাদের কথায় মনে হয় যে পাঁচ বছরের সরকার। আমরা শুরুই করলাম না। তারও আগেই যত সব অভিযোগ। এই দুই মাসে কী কী করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে, সেই কথাগুলি কিন্তু একবারও বলেন না।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আমি-ডামি নির্বাচন করে, যারা জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত, তাদের সঙ্গে বিএনপির তুলনা করেন? এই জন্য বললাম মাননীয় স্পিকার, আমাদের সংসদ সদস্য চান ভাই (আবু সাঈদ) এখানে রয়েছেন। তিনি বলেছেন ওনাদের সাথে (জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে) একসাথে জেল খাটলাম, এখন ভাব বুঝতাছি না ঘটনা কী? আমিও কথাবার্তায় ভাব বুঝি না। সংসদে কয় এক কথা, বাইরে যাইয়া কয় এক কথা। সেই জন্য আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করছিলাম, আমি মোনাফেক বলব কি না। যেহেতু আপনি না করছেন, আমিও আর বললাম না।’



