আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। এই লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই-বাছাই শেষে ৫০টি আসনের ৪৯টি বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে কমিশন। ফলে এই আসনে কী হবে, সেটিই এখন আলোচনায় এসেছে।
কোন দলের প্রার্থী কতজন
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ৩৬টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয় নির্বাচন কমিশনে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ১৩টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। আর স্বতন্ত্র মোর্চা থেকে একটি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়, যার নাম সুলতানা জেসমিন।
এছাড়াও আরও তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন ইসিতে। তারা হলেন শাহীনা আক্তার, মোসাম্মদ মেহরুন্নেসা ও মাহবুবা রহমান। এই তিনজন কোনও দল বা জোট থেকে নয়, আবেদন করেছিলেন স্বতন্ত্রভাবে। এর মধ্যে মাহবুবা রহমান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এদিকে, এই নির্বাচনে অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নুসরাত তাবাসসুম।
কীভাবে ফাঁকা হলো একটি আসন
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ৩৬টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলে আজ তার সবগুলোই বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র মোর্চা থেকে দাখিল করা সুলতানা জেসমিনের মনোনয়নও বৈধ করে ইসি।
অপরদিকে, সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য ১৩টি আসন বরাদ্দ করে ইসি। এর মধ্যে গতকাল ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর এই জোটে থাকা এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আর আজ তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করে ইসি।
মনোনয়ন বাতিলের কারণ জানিয়ে মঈন উদ্দিন খান বলেন, “গতকাল ২২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে মনিরা শারমিনের কিছু ডকুমেন্টে ঘাটতি ছিল। সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমাদের কাছে জমা দেন। আমরা সংরক্ষিত মহিলা আসন সংক্রান্ত আইন এবং আরপিওর প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো পর্যালোচনা করেছি। এতে দেখা যায়, তিনি একটি স্ট্যাটিউটরি পাবলিক অথরিটি অর্থাৎ, কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। এ ক্ষেত্রে আরপিও ১৯৭২-এর ১২ (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনও পাবলিক স্ট্যাটিউটরি অথরিটিতে কর্মরত ব্যক্তি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া বা অবসর গ্রহণের পর কমপক্ষে তিন বছর অতিক্রান্ত হতে হয়। কিন্তু, তার ক্ষেত্রে এই তিন বছর অতিক্রান্ত হয়নি। বিধায়, এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।”
যদিও মনোনয়ন বাতিলের পর মনিরা শারমিন আজ বলেছেন, “আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবো।”
জানা যায়, জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি চাকরি ছাড়েন। অর্থাৎ, চাকরি ছাড়ার চার মাস পেরিয়েছে তার।
এমন পরিস্থিতিতে আইন বলছে, কোনও দল বা জোটের জন্য বণ্টন করা আসন সংখ্যার চেয়ে মনোনয়নপত্র কম হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি সংসদের প্রতিনিধিত্বকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।
আসন উন্মুক্ত হলে কী হবে
কোনও আসন মুক্ত হলে কী হবে এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন বলছে, মনোনয়ন বাতিল হওয়া আসনটি উন্মুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে ওই আসনের জন্য নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল ও জোট আইন অনুযায়ী অংশ নিতে পারবে।
এই বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির উপ-সচিব মো. মনির হোসেন বলেন, “যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও আসন শূন্য থাকে তাহলে পরবর্তীতে তা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। জাতীয় সংসদ মহিলা সংরক্ষিত আসন-২০০৪ এ বলা আছে, বাতিল হওয়া আসনটি পরে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেই আসনের নির্বাচনে তখন সকল জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে।”
যদি কারও প্রার্থিতা বাতিল হয় সেক্ষেত্রে ওই আসনে কি হবে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “যদি কারও প্রার্থিতা বাতিল হয় এবং কোনও আসন ফাঁকা হয়ে থাকে সেক্ষেত্র আসনটি সব দলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কমিশন একটি নতুন তফসিল ঘোষণা করবে এবং দল বা জোটগুলো নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। পরে ওই আসনে আবার নির্বাচন হবে। ওখানে সব পার্লামেন্ট মেম্বাররা ভোট দেবেন। সংরক্ষিত আসনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।”
উল্লেখ্য, যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।



