আবুল হোসেন খানের আহ্বান: মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস জানাতে হবে নতুন প্রজন্মকে
আবুল হোসেন খানের আহ্বান: মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস জানাতে হবে

আবুল হোসেন খানের সংসদে আহ্বান: মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে

বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান সংসদ অধিবেশনে একটি জোরালো বক্তব্য রেখে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও সত্য ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে জামায়াত-ই-ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ জামায়াত করতেন না, বরং তারা পরবর্তীতে এই দলে যোগ দিয়েছেন।

সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় উঠে এলো ইতিহাসের দাবি

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আবুল হোসেন খান এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দলের কী ভূমিকা ছিল তা আমরা জানি। জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তখন কেউ জামায়াত করতেন না, তারা জামায়াতে পরে গেছেন।”

৫৪ বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় আবুল হোসেন খান দাবি করেন, বিএনপিতে তার ৩৪ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যেসব মানুষের যে ভূমিকা ছিল এই ভূমিকা নিয়ে একটি সত্য ইতিহাস আমাদের জাতি কিন্তু এখনও জানে না। আমাদের যে প্রজন্ম এই প্রজন্ম একটা ভুল, অসত্য ইতিহাস নিয়ে তারা বড় হয়েছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কাছে অনুরোধ

আবুল হোসেন খান সংসদে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য সদস্যদের প্রতি একটি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আজ এই সংসদে আমি প্রধানমন্ত্রীসহ যারা উপস্থিত আছেন সবার পক্ষ থেকে আমার একটা অনুরোধ, সেটা হলো আগামী প্রজন্ম যেন একটা সত্য ইতিহাস জানতে পারে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলাম ও জাসদ ছাড়াও ছোটখাটো দলগুলো ছিল, যা এখন বিলীন হয়ে গেছে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘৭০-এর দশক থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি একজন কর্মী হিসেবে রাজপথে উপস্থিত ছিলেন এবং ‘৭৩ সাল থেকে জেল খাটার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

শহীদদের তালিকা প্রণয়নের জরুরি আবেদন

আবুল হোসেন খান আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে এবং ইতোমধ্যে বিল পাস হয়েছে, যার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি সঠিক তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, “কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কত লোক শহীদ হয়েছেন এই তালিকাটা আমাদের কাছে নাই। আমি অনুগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, অনুগ্রহ করে একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে কত লোক শহীদ হয়েছেন— একটা তালিকা করেন।”

তিনি পুনরায় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন জামায়াত ইসলামীর সদস্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জামায়াত করতেন না। আবুল হোসেন খানের এই বক্তব্য সংসদে একটি আলোচনার সূত্রপাত ঘটায় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।