সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিএনপির সেলিমা রহমান ও সানসিলা জেবরিন
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই প্রক্রিয়ায় দলের আরেক প্রার্থী সানসিলা জেবরিনও অংশ নেন এবং সংসদে নারী অধিকার ও স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
সেলিমা রহমানের বক্তব্য: সমন্বিত দলের শক্তিশালী ভূমিকার আশা
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপির এবারের মনোনয়নপ্রক্রিয়া অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখানে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয় করা হয়েছে, যা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর দল গঠনে সহায়ক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমন্বিত দলটি জাতীয় সংসদে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
মনোনয়নপ্রক্রিয়ার সফলতার জন্য সেলিমা রহমান দলীয় নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা এ জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের চেয়ারম্যানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’ তার মতে, এই মনোনয়ন দলের ঐক্য ও সংগঠনের প্রতিফলন ঘটায়।
সানসিলা জেবরিনের পরিকল্পনা: নারী অধিকার ও স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন
মনোনয়ন জমা দেওয়া শেষে আরেক প্রার্থী সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা) বলেন, তিনি সংসদে গিয়ে নারী অধিকার ও দেশের স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকা রাখতে চান। তিনি নারী জাগরণ, স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সানসিলা জেবরিন শেরপুর-১ আসনে প্রার্থী ছিলেন। তিনি শেরপুর সদরের বর্তমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সেখানে হাসপাতাল, রেললাইন, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন—কিছুই নেই। যে সদর হাসপাতালটা আছে, সেটাও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তার প্রথম কাজ হবে নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করা এবং শেরপুর সদরকে নতুন করে গুছিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তার লক্ষ্য হলো স্থানীয় উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখা।
অন্যান্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও সামাজিক মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ
সকাল থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা পৃথকভাবে নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া ১১ দলের মনোনীত নারী প্রার্থীরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সেলিনা সুলতানা নিশিতা বলেন, দেশে নারীদের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বুলিং বেড়ে গেছে।
তিনি সতর্ক করে দেন যে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভালো পরিবারের নারীরা রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি।
মোটের উপর, এই মনোনয়নপ্রক্রিয়া বিএনপির সংসদীয় প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জগুলো উন্মুক্তভাবে আলোচনা করেছেন, যা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



