এনসিপির মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদে যাচ্ছেন
মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদে

এনসিপির মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদে যাচ্ছেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। এনসিপির নীতিনির্ধারণী একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই দুজন নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে সংসদে পাঠানোর বিষয়টি দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁরা আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ দিনে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

মনোনয়নের প্রক্রিয়া ও ঐক্যের ভূমিকা

মনিরা শারমিন এনসিপির আসনের অনুপাতে পাওয়া একটি সংরক্ষিত আসনে মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে, মাহমুদা আলম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের মনোনয়নে সংসদে যাচ্ছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ঐক্যে যুক্ত হয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় এনসিপি। ঐক্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপি ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, যাদের মধ্যে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি, যা ৩০০টি সংসদীয় আসনের অনুপাতে ভাগ হয়ে থাকে। এই হিসাবে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি জোট ৩৬টি, ১১-দলীয় ঐক্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা ১টি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছেন। ১১-দলীয় ঐক্যের ১৩টি আসনের মধ্যে এনসিপির নিজস্ব আসন একটি, জামায়াতের ১১টি এবং ঐক্যের মোট আসনের অনুপাতে তারা আরও একটি আসন পেয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মনোনয়ন বণ্টন ও নেতাদের প্রোফাইল

জামায়াত নিজেদের জন্য আটটি আসন রেখেছে, আর এনসিপিকে একটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে একটি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) একটি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজনকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এনসিপি দলীয়ভাবে মনিরা শারমিনকে সংরক্ষিত আসনের জন্য চূড়ান্ত করেছে বলে একাধিক নীতিনির্ধারণী নেতা ও সংসদ সদস্য নিশ্চিত করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মনিরা শারমিন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পাশাপাশি দলের নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন এবং ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনে জয়ী হন।

অন্যদিকে, মাহমুদা আলম মিতুও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বেসরকারি সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্রী এবং বর্তমানে চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠকের পাশাপাশি নারীশক্তির সদস্যসচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনী ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসনে মনিরা শারমিন প্রথমে এনসিপির মনোনয়ন পেলেও পরে নির্বাচনে অংশ নেননি, তবে দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাহমুদা আলম প্রথমে ঝালকাঠি-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন, কিন্তু ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে সমঝোতার কারণে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়, ফলে তিনি আর নির্বাচন করেননি।

এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘এনসিপি যখন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হয়, তখন বোঝাপড়া হয়েছিল যে আমরা ৩০টি আসনে নির্বাচন করব এবং একটি সংরক্ষিত মহিলা আসন আমরা ঐক্য থেকে পাব। সেই বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির একজন এবং ঐক্য থেকে আমাদের দলের একজন সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে যাচ্ছেন। দুজনের নামও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।’