জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এই অভিযোগ করেন। তবে শনিবার রাতে উভয় নেতা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এসব টাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ, যা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে।
অভিযোগ ও বক্তব্য
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া বলেন, আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে নিয়েছেন। তিনি বলেন, 'তারা চেয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।' এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
আসিফ মাহমুদের ব্যাখ্যা
আসিফ মাহমুদ ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, 'প্রশাসককে কে বসিয়েছে? তাকে রাজস্ব ও এডিপি অর্থের পার্থক্য জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সব উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা বিধি মোতাবেক প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। নথি জেলা পরিষদে আছে।'
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য
হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে বলেন, 'প্রশাসক বলেছেন আমরা রাজস্ব খাত থেকে টাকা নিয়েছি, কিন্তু এটি মিথ্যা। বরাদ্দ এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্প থেকে। দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা, ১০ কোটি নয়। এই অর্থ ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।' তিনি আরও বলেন, 'প্রশাসক রাজস্ব ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।'
প্রশাসকের পাল্টা বক্তব্য
রাতে মোস্তাক মিয়া বলেন, 'নিজস্ব রাজস্ব ও এডিপি বরাদ্দ সবই সরকারি টাকা। দুই উপজেলার প্রকল্প তদন্ত করা হবে। অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে তদন্তের কথা বলেন।
উল্লেখ্য, আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে জানান তারা।



