কুমিল্লার চান্দিনায় নিখোঁজ রাসেল মুন্সিকে খুন করে লাশ গুম করা হয়েছে। জেলার বুড়িচং উপজেলার কাকিয়াচর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে পড়ে থাকা রক্তের ডিএনএ পরীক্ষায় ওই রক্তের সঙ্গে রাসেল মুন্সির মা-বাবার রক্ত ম্যাচ করেছে। আর ওই রক্তের সূত্র ধরে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে রাসেল মুন্সি নিখোঁজ নয়, তাকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার সত্যতা নিশ্চিত
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) ফয়সাল তানভীর ডিএনএ পরীক্ষার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে ৫ মে রাজধানীর ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশ থেকে ডিএনএ পরীক্ষক মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে ওই তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘরে পাওয়া ও সিগারেটের খালি প্যাকেটে লেগে থাকা রক্ত পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, রাসেল মুন্সি তার পিতা মো. মনির হোসেন ও মাতা হোসনেয়ারা বেগমের গর্ভজাত পুত্রসন্তান।
পাঁচ মাসেও হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি
রাসেল মুন্সি নিখোঁজের প্রায় পাঁচ মাসেও হত্যার রহস্য উদঘাটন বা প্রকৃত হত্যাকারী চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় রাসেল মুন্সির পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাসেল মুন্সি (২৭) কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের মহারং মুন্সি বাড়ির মনিরুল ইসলাম মুন্সির ছেলে।
নিখোঁজের ঘটনা
গত বছরের ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পায় পরিবারের সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে রাসেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর রাসেল মুন্সির ছোট ভাই মাসুদ রানা চান্দিনা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে ওই বিষয়ে চান্দিনা থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ৩ মাসেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
পরিত্যক্ত ঘর থেকে আলামত
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনায় চান্দিনা থানায় অপহরণ মামলা দায়েরের পর পার্শ্ববর্তী বুড়িচং উপজেলার কাকিয়ারচর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে রাসেল মুন্সির ব্যবহৃত ব্যাগ, আতর এবং ঘরের মেঝে ও দেয়ালে রক্তের দাগ পায় পুলিশ। সেদিন সিআইডির সহযোগিতায় আলামত সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ল্যাবে প্রেরণ করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাসেলের ঘনিষ্ঠ ৩ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে সন্দেহভাজন আরও ১ জনকে আটক করে পৃথক সময়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে রিমান্ডে আসামিদের কাছ থেকে নিখোঁজ রাসেল মুন্সি সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি পুলিশ। ইতোমধ্যে দুই আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রাসেল মুন্সির পরিবার।
নিহতের স্ত্রীর বক্তব্য
নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার জানান, আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর যখনই পরিত্যক্ত ঘরে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র পাওয়া যায় তখনই আমরা বারবারই বলে এসেছি আমার স্বামীকে খুন করে লাশ গুম করা হয়েছে। সিআইডি ওই ঘর থেকে রক্তের ছাপের নমুনা নিয়ে ল্যাব পরীক্ষায় যখন প্রমাণিত হয়- ওই রক্তও আমার স্বামীর।
পুলিশের বক্তব্য
নাম প্রকাশ না করা শর্তে চান্দিনা থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু এখনো লাশ উদ্ধার করা যায়নি বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারো কাছ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি সেহেতু অফিসিয়ালভাবে খুনের বিষয়টি বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে রাসেল মুন্সিকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) ফয়সাল তানভীর জানান, অপহরণ মামলার সূত্র ধরে আমরা প্রাথমিকভাবে চারজনকে আটক করেছি। একাধিকবার তাদের রিমান্ডেও এনেছি; কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্যই মিলেনি। ডিএনএ পরীক্ষায় আমরা নিশ্চিত হয়েছি পরিত্যক্ত ঘরে রাসেল মুন্সির ব্যবহৃত ব্যাগ, আতরের সঙ্গে পাওয়া রক্তের ছাপও তার। এ ঘটনায় দ্রুত রহস্য উন্মোচন হবে বলে মনে করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।



