কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে তিস্তা সেতুর টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষক ও আট জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা সেতুর টোল প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. রাশেদুল ইসলাম এবং লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের পরিচয় ও চিকিৎসা
আহত শিক্ষকের নাম রাফি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক। তিনি ছাড়াও বিভাগের অন্তত আট জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।
হামলার ঘটনা ও অভিযোগ
ঘটনাস্থলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ওপর দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের চড়াও হওয়ার সুযোগে টোল প্লাজার কর্মীরা এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় বুধবার প্রক্টোরিয়াল বডির উদ্যোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে পুলিশের দাবি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা থামাতে গেলে টোল প্লাজার কয়েকজন কর্মী পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় রাতেই দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
হামলার শিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দিনাজপুরে ফিল্ড ট্রিপ শেষে দুটি বাসে কুড়িগ্রামে ফিরছিলেন। রাত ৮টার দিকে টোল প্লাজায় পৌঁছালে গাড়ির টোল দেওয়া না দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা শিক্ষক টোল দিয়ে দেন। এরপরও হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলো সাধারণত টোল দেয় না। এর আগেও আমরা টোল ছাড়া যাতায়াতের সুবিধা পেয়েছি। আজকেও টোল কর্মীদের সেটা বলার পরও আমাদের গাড়ি আটকে দেয়। আরেকটি গাড়ি থেকে আমাদের বিভাগের আব্দুর রাজ্জাক স্যার নেমে এসে টোল পরিশোধ করেন। গাড়ি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকায় দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে এক স্যারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। স্যারকে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে গেলে ওই সময়েই টোল প্লাজার কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। সেসময় ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও আমরা সহায়তা পাইনি।’
হামলার শিকার শিক্ষক রাফি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘একজন পুলিশ সদস্য আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছিলেন। আমাকে ধাক্কাও দিয়েছিলেন। আঙুল তুলে কথা বলছিলেন। আমি সেটার প্রতিবাদ করছিলাম। পেছনে ফিরে দেখি আমার ছাত্রদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হচ্ছে। আমি তাদের দ্রুত উদ্ধার করে বাসে তুলে দিয়ে গিয়ে হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়ি। হামলার শিকার হই। কিছুক্ষণ আমাকে আটকে রাখার পর শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় আমার গায়ের পোশাক ছিঁড়ে যায়। সেখান থেকে এসে আমরা কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিই।’
ভিসি ও পুলিশের বক্তব্য
ভিসি অধ্যাপক ড. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ রাতেই দুজনকে আটক করেছে। আহত শিক্ষার্থীদের রাতেই হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে বুধবার সকালে আবারও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা সবাই ভালো আছে। হামলার ঘটনায় প্রক্টোরিয়াল বডির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
ওসি সাদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হন। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে কাজ করছে।’
তিস্তা টোল প্লাজার ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘রানা কনস্ট্রাকশনের’ স্থানীয় প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



