নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের হাত থেকে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে (৪২) ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ ডজনখানেক মামলার আসামি শামীম মিয়াকে পুলিশ গত ৫ মে ভোরে গ্রেফতার করলে তাঁর সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার বিবরণ
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টায় পুলিশ চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে শামীম মিয়াকে গ্রেফতার করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সমর্থক ও দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলে। তারা পুলিশের পিকআপ ভ্যানের চাকা কেটে দেয় এবং হাতাহাতি করে। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, দুটি মোবাইল ফোন ও শামীম মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেয়।
চনপাড়ার বর্তমান অবস্থা
ঘটনার পর চনপাড়ার অধিকাংশ বাড়িতে কেবল নারী ও শিশুরা অবস্থান করছে। বাজারেও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শামীম মিয়াকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি এবং লুট হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়নি।
মামলা ও গ্রেফতার
ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার এসআই ইউনুস আলী খান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি মালামাল ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ৪০ জনকে নামীয় ও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
চনপাড়ার ব্যবসায়ী আলী আজগর বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হোক এবং নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, এলাকায় সব সময় ভয়ে থাকি, এখনো আতঙ্ক কাটেনি। আরেক গৃহবধূ সালমা বেগম জানান, তাঁর স্বামী ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় ছিলেন এবং শামীম মিয়ার সমর্থক নন, তবুও মামলায় আসামি হয়েছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
যুবদল থেকে বহিষ্কার
ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি শামীম মিয়াকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে। সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।



