জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “আগে ছিল ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ লীগ। এখন পুলিশ দল হয়েছে। ঝিনাইদহে প্রথমে আমরা ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপিকে দায়ী করেছিলাম। কিন্তু, তাদের সঙ্গে আরেকটি বাহিনী হামলা চালিয়েছে, সেটা পুলিশ দল।”
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিম নিক্ষেপ থেকে ইট-পাটকেল
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ঝিনাইদহে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আমার ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। একটি ডিম চোখে আঘাত করলে কিছু সময় অন্ধকার দেখেছি। পরে ঘুষি মারা হয় এবং ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এ সময় আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।”
থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি
তিনি অভিযোগ করেন, “ঘটনার পর বিচার চাইতে থানায় গেলে প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। থানার বিদ্যুৎ ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা থানা ত্যাগ করেন। রাতের বেলায় বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশ অভিযোগপত্র নেয়। মামলা নেওয়ার পর রাতেই প্রায় হাজার তিনেক মানুষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থানায় এসে গেট ভাঙা শুরু করে। তখন আমি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম যে, প্লিজ সেভ আস। আমি কালেমা পড়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ওই পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পুলিশ হামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছে।”
জঙ্গি শাসনের অভিযোগ
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “আমি ইতোমধ্যে একটা ভিডিও শেয়ার করেছি যে পুলিশ কীভাবে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকার জঙ্গল সলিমপুরকে যৌথ বাহিনী দিয়ে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশ মিলে তারা নব্য একটি আইনের শাসনকে ব্যত্যয় করে জঙ্গি শাসন কায়েম করেছে।”
দেশে কোনও আইনের শাসন নেই, জংলি শাসন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের কোনও কন্ট্রোল নেই। পেছনে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোনও পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।”
সরকারের প্রতি আহ্বান
সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমাদের সহযোদ্ধাদের তুলে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলা বন্ধ করুন। আমার একটা ক্যামেরা নিয়ে গেছে, যেখানে আমার ফ্যামিলির ছবি ছিল। দিনের বেলায় মিডিয়ার সামনে অস্ত্র ঠেকিয়ে সেটা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনি কিছু না পারেন, আমার ক্যামেরাটা একটু দেন। সহযোদ্ধাদের মুক্তি দিন এবং ঈদের আগে তাদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিন।”



