জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কী হবে আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যুদ্ধ করে জয় করতে হবে। বিনা যুদ্ধে কোথাও জয় আসবে না। এটাও মনে রাখবেন, টাকা খরচ করে কেউ কিছু করতে পারবে না। অন্য আয়োজন দিয়ে আমাদের হারানোর চেষ্টা করবে। গরিবদের ভুল বুঝবেন না। গরিবরা তাদের ইমান বিক্রি করে না।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য
শুক্রবার (১৫ মে) রংপুরের একটি মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত থানা ও উপজেলা আমির সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জামায়াত আমির বলেন, শয়তান যেন আমাদের সংগঠনের দায়িত্বশীলদের ওয়াসওয়াসা না দিতে পারে। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে।
কল্যাণ কর্মসূচিতে কৃপণতা না করার আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সংগঠন হিসেবে কল্যাণের কাজের যে সমস্ত কর্মসূচি হাতে নেয়, এ কর্মসূচির ক্ষেত্রে কেউ কোনো কৃপণতা করবেন না। আমরা এর আগেও বারবার বলছি, এখনও বলছি, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য দলের হওয়ার কারণে তাকে তার পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন, তাহলে হাশরের দিন আপনার বোঝা নিয়ে আপনি দাঁড়াবেন। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এ বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।
সতর্কতা ও দাগমুক্ত থাকার নির্দেশ
আমিরে জামায়াত আরও বলেন, আমাদের লেনদেন, আচার-আচরণে আগের চেয়ে অনেক সতর্ক হতে হবে। মনে রাখবেন, এর আগে কেউ মনে করত না যে, আপনারা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। মনে করত, একটা ইনঅ্যাকটিভ দল হিসেবে এরা বেঁচে থাকবে। এখন অনেকে মনে করে আপনারা হবেন ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী। কাজেই আপনাদের প্রত্যেককেই সার্চলাইট দিয়ে দেখা হবে। আপনাদের শরীরের একটা লোমও ওই লাইটের বাইরে থাকবে না। দুটি সার্চলাইট এখন আপনাদের দিকে তাক করা আছে, একটা আল্লাহ তায়ালার, আরেকটি জনগণের। এই দুইটাকে সমন্বয় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই। কুরআনের আইন চাই—এ দাবি কেউ চায় না। তবে কিছু ইসলামী দল এ দাবি করে। দৃশ্যমান প্রধান প্রধান দল এ দাবি করে না। তাদের গায়ের জামায় দাগ লাগলেও কেউ ঘাঁটাঘাঁটি করে না। মানুষ মনে করে, তারা তো এমনই।
আল্লাহর ভয়ে দাগমুক্ত থাকার তাগিদ
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের দায়িত্বশীলের গায়ে কোনো দাগ লাগলে কেউ ছেড়ে কথা বলবে না। মানুষের ভয়ে নয়, আল্লাহর ভয়ে দাগমুক্ত থাকতে হবে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই পাওয়া যাবে না। এ জন্য বিপদের সময়ে যেভাবে আল্লাহকে ডাকা হয়, এখনও সেভাবে আল্লাহকে স্মরণ করতে দায়িত্বশীলদের আহ্বান জানান আমিরে জামায়াত। তিনি বলেন, আমরা বিপদে আছি। প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকতে হবে। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল থাকতে হবে।
স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি
দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা সংগঠনের নিয়মিত কাজ এবং দাওয়াতি কাজ করেন। আমি ব্যতিক্রম কিছু জিনিস আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে যাচ্ছি। সামনে স্থানীয় নির্বাচন আসতেছে। আল্লাহ তায়ালা এমন কিছু মানুষকে বন্ধু-সঙ্গী বানিয়ে দিয়েছেন, জীবনে কোনো দিন তারা আমাদেরকে ভোট দেয়নি, আমাদের মিছিল-মিটিংয়েও যায়নি। বরং, ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের পোস্টার ছিঁড়েছে, আমাদের ব্যানার কেটে দিয়েছে, আমাদের মিছিলে আক্রমণ করেছে। এরকম বহু মানুষ জাতীয় নির্বাচনে আমাদের সঙ্গী হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন যোগ্যতা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা সামাজিক যোগ্যতা দিয়েছেন, সেটা আমার মধ্যে নেই।
জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচন হলো একটি সামাজিক লড়াই। সামনের নির্বাচনে এই লোকগুলোকে ইউনিয়নের মেম্বার থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র পর্যন্ত—এদের মধ্যে কোনো উপযুক্ত লোক থাকে, প্রতিভা থাকে, আস্তে করে হাতে ধরে তাকে ওখানে নিয়ে যেতে হবে। শর্ত মাত্র দুটো- একটা হলো হারামের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া। আরেকটি হলো তিনি বদমেজাজি না হওয়া।
মহিলা এমপি প্রসঙ্গ
তিনি আরও বলেন, আমরা ভাগে মাত্র ১১ জন মহিলা এমপি পেয়েছিলাম। এর মধ্যে ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও ৬ বছরের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মাকে ৩টি উপহার দিয়েছি। আমরা সিট দিয়ে তার মাকে সম্মানিত করিনি, ইব্রাহিমের মাকে সিট দিয়ে আমরা সম্মানিত হয়েছি।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের প্রসঙ্গ
আমিরে জামায়াত বলেন, সাড়ে ১৭ বছর এ জাতির ঘাড়ে একটি বোঝা চেপে বসেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আল্লাহ তায়ালা সেই বোঝাটি সরিয়ে দিয়েছেন।



