ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এসিবি)। সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
গ্রেপ্তার কর্মকর্তা পরিচিতি
গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সংকিরেড্ডি ভীম রেড্ডি, যিনি হায়দরাবাদের পুলিশ কম্পিউটার সার্ভিসেস (পিসিএস)-এ কর্মরত ছিলেন। এসিবির অভিযোগ, চাকরিকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ভীম রেড্ডি তার বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযান ও উদ্ধারকৃত সম্পদ
গত ২ জুলাই এসিবি একযোগে তার বাসভবনসহ তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকের মোট ১৬টি স্থানে অভিযান চালায়। এসব স্থানের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক এবং সহযোগীদের সম্পত্তিও ছিল। তল্লাশিতে কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত সম্পদের সন্ধান পান:
- হায়দরাবাদের ভেসেলা মেডোজে একটি বিলাসবহুল ভিলা;
- টেলিকম নগরে জি+২+পেন্টহাউস বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন;
- সাই প্রভা রেসিডেন্সিতে একটি ফ্ল্যাট;
- গাচিবাউলির ক্রান্তি সিওন অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট;
- মানিকোন্ডার ল্যাঙ্কোহিলস রোডে ৫০০ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত একটি জি+৫ বাণিজ্যিক ভবনের অংশীদারত্ব;
- মানিকোন্ডা মারিচেত্তু জংশনের কাছে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা;
- টেল্লাপুরের অভিনন্দা রেসিডেন্সিতে দুটি ফ্ল্যাট;
- প্রগতি রিসোর্টস এলাকায় ৫০০ বর্গগজের একটি খালি প্লট;
- সাঙ্গারেড্ডির জহিরাবাদে সাড়ে ৩ একর কৃষিজমি;
- কর্নাটকে ৬ একর কৃষিজমি;
- কর্নাটকেই আরও ৩৮ একর কৃষিজমি;
- ব্যাঙ্গালোরের দেবনাহাল্লিতে ১ একর জমি;
- নাগোলের কামিনেনি হাসপাতালের কাছে ২০০ বর্গগজের একটি প্লট;
- পাটানচেরুর জিপিআর হাউজিং সোসাইটির কাছে ৪০০ বর্গগজের একটি প্লট;
- পাটানচেরুতেই আরও ২০০ বর্গগজের একটি প্লট;
- বিকারাবাদের মোমিনপেটে ১ হাজার বর্গগজের একটি জমি;
- মোমিনপেটে ২ একর কৃষিজমি;
- শ্রী রাঘবেন্দ্র রক স্যান্ড মিনারেলস নামের প্রতিষ্ঠানে ৭৫ লাখ রুপির বিনিয়োগ;
- সিসি কুন্তা এলাকার মুচিন্তালা গ্রামে ৪ দশমিক ২০ একর কৃষিজমি;
- নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপা।
তল্লাশিতে ভীম রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ আলামত: হাতে লেখা ডায়েরি
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে একটি ব্যক্তিগত হাতে লেখা ডায়েরি উদ্ধারের পর। চারধাম তীর্থযাত্রায় যাওয়ার আগে ভীম রেড্ডি ওই ডায়েরিতে নিজের সম্পদ, বিনিয়োগ, দায়-দেনা এবং কথিত বেনামি ব্যক্তিদের নাম লিখে রেখেছিলেন বলে দাবি করেছে এসিবি। পরে তিনি ডায়েরিটির স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার দুই ছেলের কাছে পাঠান। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই ডায়েরি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র পাওয়া গেছে।
তদন্ত চলমান
এসিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান।



