সাভার থানা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামিরকে গুরুতর আঘাত, ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বাহাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজিরা
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোড এলাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই আশিষ কুমার দাস আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। সামির পক্ষে তার আইনজীবী মো. মহসিন মিয়া জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে রবিবার (৫ জুলাই) শুনানি করতে চান তিনি। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির দিন রেখেছেন রবিবার।
চাঁদাবাজি ও হামলার বিবরণ
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চাঁদা না পেয়ে গত ২৪ মে দুপুরে সামির তার দলবল নিয়ে শামীম রেজার রাজাশন আমতলীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এবং ঘর থেকে নগদ ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা লুট করে নিয়ে যান। এরপর তারা শামীম রেজার রিকশা গ্যারেজে হানা দিয়ে গ্যারেজের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান।
পরবর্তীকালে আসামিরা আবারও ওই গ্যারেজে হানা দিয়ে আরও ৯ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশা লুট করেন। সর্বশেষ গত ১২ জুন রাতে সামির তার দলবল নিয়ে শামীম রেজার তিন তলা ফ্ল্যাটে ঢুকে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। আসামিরা শামীম রেজার বৃদ্ধা খালা সুরাইয়া বেগমকে মারধর করেন এবং তার গলা থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন।
শ্লীলতাহানি ও শিশু হত্যাচেষ্টা
এছাড়া বাধা দেওয়ায় তার খালাতো বোন লাবনী বেগমের স্বামী একরামুল হককে সুইচ গিয়ার চাকু ও হকি স্টিক দিয়ে মাথায় ও পিঠে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়, শামীম রেজার ভাইয়ের স্ত্রী বন্যা বেগমের শ্লীলতাহানি করেন এবং তার ২ বছরের শিশু কন্যা সায়মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আছাড় মারা মারেন। আসামিরা সব মিলিয়ে নগদ টাকা, রিকশা ও স্বর্ণালঙ্কার বাবদ ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।
মামলা ও অন্যান্য ঘটনা
এ ঘটনায় শামীম রেজার খালাতো বোন লাবনী বেগম বাদী হয়ে গত ২৪ জুন সাভার মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত ২ জুন রিপন ঋষি নামের এক কিশোরকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতন চালান মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।



