ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর রিফাত হোসেন (২৮) নামের এক যুবকের লাশ নরসিংদীর চরাঞ্চল থেকে উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদী সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কান্দাপাড়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় মেঘনা নদী তীরবর্তী একটি ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিফাত নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা ও মৃত মোস্তাক আহমেদের ছেলে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। রিফাতের স্ত্রী এবং তিন মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নবীনগরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় গত রবিবার গোলাগুলির ঘটনায় রিফাত আহত হন। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। ওই ঘটনায় কনিকা রানী দাস (৩৫) নামে এক নারীও গুলিবিদ্ধ হন। কিন্তু রিফাতের খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরেই হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল।
নৌ পুলিশের কার্যক্রম
নৌ পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকালে কয়েকজন কৃষক ছাগল চরাতে গিয়ে নদীর তীরের একটি ঝোপে লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে নৌ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল তৈরি শেষে লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে রাতেই নিহতের বোন মুক্তা বেগম মর্গে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।
মুক্তা বেগম জানান, গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে থোল্লাকান্দি গ্রামে একদল ডাকাত হানা দেয়। এ সময় তাদের গুলিতে রিফাত আহত হন। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার করিমপুরে একটি লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন।
মুক্তা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শরীরে গুলি ও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। দাফন শেষে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবো আমরা।’
পুলিশের বক্তব্য
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘নবীনগরে নিখোঁজ ওই যুবকের লাশ করিমপুরের নদীর তীরে থেকে উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়।’
নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিফাতের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সোমবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী স্যারসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় কোনও মামলা করেনি। মামলা করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



