কক্সবাজারে মাদকের আসর থেকে বিএনপি নেতাসহ ৬ জন আটক
কক্সবাজারে মাদকের আসর থেকে বিএনপি নেতাসহ ৬ জন আটক

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে মাদকের আসর থেকে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোদাইবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার।

আটকদের পরিচয়

আটকদের মধ্যে জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল (৪০) ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ওই ওয়ার্ডের মধ্যম গজালিয়ার মৃত মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর ছেলে। অন্যরা হলেন, ইসলামাবাদ ইউপির পূর্ব গজালিয়ার মৃত আবদুল মোতালেব ছেলে শাহাবুদ্দিন (৪০), মধ্যম গজালিয়ার মৃত সৈয়দ আহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন (৩৩), গজালিয়ার সীমান্ত রামুর ঈদগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মাইজপাড়ার মৃত আকবর হোসেনের ছেলে আশরাফ ছিদ্দিকি (২৬), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাজঘাটের মোহাম্মদ নুরুল আজিমের ছেলে আল আতা ছাদেকি তুহিন (২৭), ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোদাই বাড়ির নুর আহম্মদের ছেলে রাসেল উদ্দিন (২৮)।

মাদক সেবনের আসর

ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, ঈদগাঁও থানার কাছাকাছি ইসলামাবাদ ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াহেদের পাড়াস্থ পারভিন আক্তারের (স্বামী জিয়াবুল হক) ব্যাচেলর ভাড়া বাসায় নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসানোর খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। ঘরটি ঘেরাও করে দরজা খুলতে বললে ভেতরের কেউ সাড়া দিচ্ছিল না। দরজা না খুললে ভেঙে ফেলা হবে, এমনটি শোনানোর পর দরজা খোলা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়েল মেম্বার টয়লেটে আত্নগোপন করেন। সেখান থেকে তিনিসহ ৬ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া

আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৭ ধারায় ঈদগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার আরও বলেন, অভিযানে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।

বিএনপির বক্তব্য

ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ জানান, জুয়েলের সঙ্গে জামায়াতের বেশকিছু নেতাকর্মীর সম্পর্ক ছিল। তখন তাকে তারা জামায়াতের কর্মী বা সমর্থক বলে মনে করতো। কিন্তু জুয়েলের বাবা প্রয়াত মৌলভী হাবিব উল্লাহ বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি, ইউনিয়নের দায়িত্বশীল হিসেবে ছিলেন, তাই ছেলে জুয়েলকে ইউনিয়নের নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। এরপর মনোভঙ্গ হওয়া জামায়াত নেতাকর্মীরা তাকে এবং বিএনপিকে বিতর্কিত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করছি আমরা।