জেমকন গ্রুপের পরিচালকের ১০ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, দুদকের মামলায় আদালতের নির্দেশ
জেমকন পরিচালকের ১০ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, দুদকের মামলা

জেমকন গ্রুপের পরিচালকের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, আদালতের নির্দেশ

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ জারি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট

দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাজী ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সংগতিহীন প্রায় ৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৪টি হিসাবে প্রায় ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন এর মাধ্যমে অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে, এবং তদন্তকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আসামি বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য

এর আগে, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন মামলার প্রেক্ষিতে কাজী ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। নতুন আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা মালিকানা পরিবর্তন করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, তদন্তের স্বার্থে তাঁর ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা জরুরি বলে বিবেচিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুদকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জেমকন গ্রুপের অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থায় দুর্নীতি দমনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে কাজী ইনাম আহমেদের ব্যাংকিং লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে, এবং তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলাটির অগ্রগতি নিরীক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সক্রিয় রয়েছেন।