পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়েশীকে বরখাস্তের সুপারিশ, অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় শাস্তির মুখে দলের ৫ সদস্য
পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়েশীকে বরখাস্তের সুপারিশ

পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়েশীকে বরখাস্তের সুপারিশ, অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় শাস্তির মুখে দলের ৫ সদস্য

ছয় বছর আগে ঢাকায় সিআইডির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আকসাদুদ–জামানকে অপহরণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়েশী। সম্প্রতি বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষে কায়সার কোরায়েশীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং তাঁর দলের অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

অডিও কথোপকথন ফাঁস ও তদন্তের ফলাফল

ওই ঘটনায় আকসাদুদ–জামানের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার কোরায়েশীর মধ্যে মুঠোফোনের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাহমিনা ইয়াসমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘১ কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই। আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?’ বিভাগীয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিকের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কায়সার কোরায়েশীসহ তাঁর দলের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

শাস্তির সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যান্য সদস্য

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার রিজভী কোরায়েশী ছাড়া শাস্তির সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জাহিদুর রহমান, মিজানুর রহমান, এসআই মাসুদুল ইসলাম, এএসআই প্রকাশ চন্দ্র গুহ ও মো. জুলহাস মিয়া এবং কনস্টেবল মাসুদ রানা। বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর বিধি মোতাবেক কায়সার কোরায়েশীকে অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ দুর্নীতিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যার ফলে বরখাস্ত বা অপসারণের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ফৌজদারি অপরাধ। সে ক্ষেত্রে ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তাঁর দলের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁদের জেল হবে। কিন্তু তা না করে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিতে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।’

ঘটনার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সিআইডির তৎকালীন এসআই আকসাদুদ–জামানকে অপহরণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কায়সার রিজভী কোরায়েশী ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে। কায়সার কোরায়েশী এখন উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, কায়সার কোরায়েশীর বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁর ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে।

আরও পড়ুন:

  • প্রবাসী রোমান মিয়ার অপহরণ মামলায় আকসাদুদ–জামানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
  • ডিবির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আকসাদুদ–জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।
  • বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে ফৌজদারি মামলা ও গ্রেপ্তারের সুযোগ রাখা হয়েছে।