দুদকের তদন্তে ডিএনসিসি কাউন্সিলর শফিকুলের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ
দুদকের তদন্তে ডিএনসিসি কাউন্সিলর শফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দুদকের তদন্তে ডিএনসিসি কাউন্সিলর শফিকুলের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের মূল তথ্য

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম সোমবার (৬ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শফিকুল ইসলামের নামে মোট ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৭ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। তার বিপরীতে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৪ টাকার ঋণ বা দায় রয়েছে, যা বাদ দিলে নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৩ টাকা

এছাড়া, পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে ১ কোটি ২০ লাখ ১২ হাজার ৩২৫ টাকা হিসাব করা হয়েছে। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ ৫ কোটি ৫২ লাখ ২ হাজার ১৩৮ টাকা। অপরদিকে, তার বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে মাত্র ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫১ হাজার ২৯০ টাকা শনাক্ত করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের বিস্তারিত

এই হিসাব অনুযায়ী, শফিকুল ইসলামের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ টাকা, যা মোট সম্পদের প্রায় ৪৬.২৮ শতাংশ। দুদকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এই সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়েরে জন্য কমিশনের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, কমিশন গঠন হওয়ার পর এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তী পদক্ষেপ

দুদকের এই তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দুদকের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনা জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।