রেলওয়ে টিকিট প্রতারণায় গ্রেপ্তার নওশাদ জাহেদ, পুলিশের অভিযানে ধরা পড়লেন
ঢাকা রেলওয়ে থানা-পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে রেলওয়ের টিকিট প্রতারণা ও কালোবাজারির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. নওশাদ জাহেদ ওরফে নয়ন, যিনি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে জাল টিকিট বিক্রি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগের বিবরণ
গত ১৮ মার্চ ইস্টার্ন ব্যাংকের কল্যাণপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুকান্ত কুমার কুণ্ডু (৪৩) ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে ২৮ মার্চ কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। টিকিট না পেয়ে তিনি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হন।
এরপর তিনি ‘ট্রেনের টিকিট ক্রয়-বিক্রয় বিশ্বস্ত গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে মো. নওশাদ জাহেদের (৩৭) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। নওশাদ জাহেদ একটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে তিনটি টিকিট সরবরাহ করেন।
জাল টিকিট শনাক্ত ও মামলা দায়ের
২৮ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে ভ্রমণের সময় কর্তব্যরত টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) টিকিটগুলো জাল বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় সুকান্ত কুমার কুণ্ডু বাদী হয়ে নওশাদ জাহেদসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে ঢাকা রেলওয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার
অভিযোগের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর টিকিট কাউন্টারসংলগ্ন পার্কিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে নওশাদ জাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য
ঢাকা রেলওয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিকিট যাঁর, ভ্রমণ তাঁর’—এটি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণীয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অবৈধ বা অন্যের নামে টিকিট ব্যবহার এবং দালালের মাধ্যমে টিকিট কেনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
এই ঘটনা রেলওয়ে টিকিট ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পুলিশের এই অভিযান টিকিট প্রতারণা ও কালোবাজারি রোধে একটি সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



