দুর্নীতির মামলায় সাবেক সচিব শাহ কামালের আয়কর নথি জব্দের আদেশ
দুর্নীতি মামলায় শাহ কামালের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

দুর্নীতি মামলায় সাবেক সিনিয়র সচিবের আয়কর নথি জব্দের আদেশ

দুর্নীতির মামলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামালের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্ত

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনের সহকারী পরিচালক বিষাণ ঘোষ আয়কর নথি জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শাহ কামাল নিজ নামে মোট ১১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩০১ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সম্পদের মধ্যে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮৩ হাজার ৩০২ টাকা অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূতভাবে অর্জিত হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, শাহ কামাল ১০টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৮ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪৪ টাকা জমা এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৪ টাকা উত্তোলন, হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন। এই লেনদেনগুলোর মাধ্যমে আয়ের উৎস আড়াল করে দুর্নীতি ও ঘুষসহ মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শাহ কামাল একজন আয়করদাতা। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের মূলকপি জব্দ করা প্রয়োজন। এই নথিগুলো মামলার তদন্তকালে পর্যালোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এই মামলাটি বর্তমানে সক্রিয় তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতের আদেশের পর আয়কর নথি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা এই নথিগুলো থেকে অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে চাইছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মামলায় সকল আইনি প্রক্রিয়া সতর্কতার সাথে অনুসরণ করা হচ্ছে। সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামালের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রমাণ সংগ্রহে এই আয়কর নথি জব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।