গফরগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ভাই মো. আরিফুজ্জামান খান গত শনিবার রাতে গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তবে, অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হেয় করার জন্য এমন মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন (৪৭) গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাতে মো. আরিফুজ্জামান খান বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেন, যাতে আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. আরিফুজ্জামানের ভাই মো. নুরুজ্জামান রানা একজন সফল ব্যবসায়ী, যার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৮টি পরচুলার ব্যবসা রয়েছে। তার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব জায়গায় আব্দুর রহমান ইসলামিয়া মাদরাসা এবং পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরি অবস্থিত। মাদরাসায় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এবং ফ্যাক্টরিতে ২৫০ জনের অধিক কর্মচারী কাজ করছেন।
চাঁদা দাবির ক্রমবর্ধমান ইতিহাস
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মীর মোজাম্মেল হোসেন মননের নেতৃত্বে অন্যান্য অভিযুক্তরা নুরুজ্জামান রানার কাছে প্রথমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং পরবর্তীতে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ফ্যাক্টরি ও মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দু’দিন পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি জানান, দাবি করা চাঁদা দিলে আর কোনও ঝামেলা করা হবে না। কিন্তু ফের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা রানাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে।
ইফতার মাহফিলে চাঁদা দাবির ঘটনা
গত ৬ মার্চ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাদরাসার ছাত্র ও পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরির কর্মীদের নিয়ে মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ব্যবসায়ী রানা দেড় বছর পর ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে সেখানে যান এবং আয়োজনের বিভিন্ন কাজে তদারকি করেন।
ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন মনন, মীর রাসেল, মীর টুইংকেল, বিটু, সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন ৯টি মোটরসাইকেল ও তিনটি অটোরিকশাযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসার সামনে আসে। তারা রানাকে ডেকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকার দাবি করে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
বাদী ও অভিযুক্তের বক্তব্য
বাদী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে অভিযোগ করার পর আমাকে কয়েকজন সন্ত্রাসী রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। বাড়ি না ছাড়লে আমার ও পরিবারের ক্ষতি করবে জানায়।”
অভিযোগ অস্বীকার করে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন বলেন, “রানা ও তার সহযোগীরা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখন তারা আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিলো। পূর্ব থেকে তার সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছে। যে কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।”
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার কামনা করছেন।



