ফরিদপুরে মাদক কোন্দলে নৃশংস হামলা: গলা ও রগ কেটে যুবককে হত্যাচেষ্টা
ফরিদপুরে মাদক কোন্দলে নৃশংস হামলা, যুবক গুরুতর আহত

ফরিদপুরে মাদক কোন্দলে নৃশংস হামলা: গলা ও রগ কেটে যুবককে হত্যাচেষ্টা

ফরিদপুর সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মণ্ডলের হাট এলাকায় ইকবাল শেখ (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে গলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় গুরুতর আহত ইকবাল শেখকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও পূর্বের হত্যাকাণ্ড

এই হামলার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে, সোমবার রাতে ফরিদপুর শহরের লক্ষ্মীপুর রেলস্টেশন বস্তি এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরোধে রাজু ওরফে বাটুল রাজুকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নুরুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করেছে। নিহত রাজু রেলস্টেশন বাজার মুসলিম কলোনির বাসিন্দা বাবলু কসাইয়ের পুত্র ছিলেন।

হামলার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে স্থানীয়রা একটি বাগানে গোঙানির শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে ইকবাল শেখকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তারা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ইকবাল শেখ ফরিদপুর সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রশিদ শেখের ছেলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তের ধরা পড়া ও চিকিৎসা

হামলা করে পালানোর সময় অভিযুক্ত জিয়া মণ্ডল (৫০) ও তার এক সহযোগী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। স্থানীয়রা জিয়া মণ্ডলকে ধরে গণপিটুনি দিলেও অপরজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে পুলিশ গিয়ে জিয়া মণ্ডলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করে। বর্তমানে সে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহতের অবস্থা ও পরিবারের বক্তব্য

ইকবাল শেখের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ভাই মো. রফিক শেখ বলেন, "আমার ভাইয়ের অবস্থা ভালো নয়, প্রচুর রক্ত দেওয়া লাগছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।"

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী ও প্রাথমিক তথ্যমতে, অভিযুক্ত জিয়া মণ্ডল এলাকায় মাদককারবারি হিসেবে পরিচিত এবং মাদক কারবারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই এ হামলার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।