দুদকের মামলায় নাসরিন ইসলামের ৫ কোটি টাকার জমি জব্দের আদেশ
নাসরিন ইসলামের ৫ কোটি টাকার জমি জব্দের আদেশ

দুর্নীতির মামলায় নাসরিন ইসলামের ৫ কোটি টাকার জমি জব্দের আদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী ও এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন কুমিল্লায় অবস্থিত বিশাল ভূ-সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জমির বিবরণ ও মূল্য

জব্দকৃত জমির পরিমাণ ৬০৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং এর আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৪২ হousand ১০৪ টাকা। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম এই সম্পত্তি জব্দের আবেদনটি করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নাসরিন ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২০ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন ও ভোগ দখলে রেখেছেন।

দুদকের তদন্ত ও উদ্বেগ

দুদকের তদন্তকালে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি নাসরিন ইসলাম তার নামীয় এই স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই যদি এই অবৈধ সম্পত্তি স্থানান্তর বা রূপান্তর হয়ে যায়, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে আদালত দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনি ভিত্তি

আদালত শুনানি শেষে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী জনস্বার্থে এই সম্পত্তিগুলো অবিলম্বে জব্দের নির্দেশ প্রদান করেন। এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতি দমন ও অবৈধ সম্পদ অর্জন রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই আদেশ দুদকের তদন্ত কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে সহায়তা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনা বাংলাদেশের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে। নাসরিন ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তবে এটি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে দুদকের ভূমিকা প্রশংসনীয় এবং এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলোর জন্য একটি আদর্শ হিসেবে কাজ করতে পারে।