‘ইসলামে বিড়াল কেনা-বেচা হারাম’—এমন বক্তব্য ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পার্সিয়ান বিড়াল দত্তকের নামে প্রতারণার অভিযোগের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (৯ মে) মামলার আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ
তিনি জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ অভিযোগটি তদন্ত করে আগামী ১৯ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার শুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মুনিরা মাহমুদ, ফরিদা ইয়াসমিন অপি ও জান্নাতুন নাঈম মারিয়া।
প্রতারণার কৌশল
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘ইসলামে বিড়াল কেনা-বেচা হারাম’ কিংবা ‘বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে বিড়াল অ্যাডপশন দিতে চাই’—এ ধরনের আকর্ষণীয় কথার আড়ালে বিনামূল্যে বিড়াল দত্তকের নামে প্রাণীপ্রেমীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা
এমন প্রতারণার শিকার হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিয়াজ মাহমুদ। অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সিয়ান বিড়াল অ্যাডপশনের কথা বলে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে টাকা নেয় প্রতারকরা। পরে নিয়াজ স্থানীয় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তিনি বাদী হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার আবেদনে পার্সিয়ান বিড়াল অ্যাডপশনের নামে মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা বন্ধ এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
আদালতের নির্দেশ
পরে আদালত অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেন। মামলায় তনিমা মেহেরীন, সাজিয়া সামান্ত, সোহানা আক্তার ও মনিষা আক্তার মনসুরাকে সাক্ষী করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই একই ধরনের প্রতারণার শিকার।
হুমকির ঘটনা
এদিকে, অভিযোগ তদন্তে আদালতের নির্দেশনার পর মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগী মনিষা আক্তার মনসুরাকে ফোন, মেসেজ এবং ফেসবুকের মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করার পর আদালতকে অবহিত করা হয়েছে।



