ফেনীতে এবি পার্টির আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও সন্ত্রাসের মাধ্যমেই জনগণ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবে। শুক্রবার (৮ মে) ফেনী শহরের মিজান রোডে অবস্থিত দলের জেলা কার্যালয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্বে কোনো পার্থক্য নেই
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং বুর্জোয়া শ্রেণী চরিত্রের দিক থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জনগণ এই দুই দলের শাসন ব্যবস্থার চারটি বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাদের পার্থক্য নির্ণয় করবে। বিষয়গুলো হলো—দুর্নীতি, দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর কী পরিবর্তন?
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ দেখবে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর কী কী পরিবর্তন এসেছে। যদি তারা কোনো পরিবর্তন খুঁজে না পায়, তাহলে হতাশা ও ক্ষোভ তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।
নতুন রাজনীতির জয় অবশ্যম্ভাবী
এবি পার্টির ছয় বছরের অর্জন ও ব্যর্থতা নিয়ে পর্যালোচনামূলক বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি করতে গিয়ে তারা খুব বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। পুরোনো দলগুলোর এখনও কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি। ঋণখেলাপি, দুর্নীতিবাজ, অর্থশালী ব্যবসায়ী, নির্যাতিত ও নিপীড়িত হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা, পাশাপাশি ধর্মীয়ভাবে মানুষের আবেগকে যারা স্পর্শ করতে পেরেছেন, তারাও এবার জনগণের ভোট পেয়েছেন। তবে নতুনদের প্রতি মানুষের আগ্রহ যে তৈরি হচ্ছে, তা এবারের ভোটের ফলাফলে অনেকটা স্পষ্ট। এই আগ্রহ ও সম্ভাবনাকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করতে পারলে নতুন রাজনীতির জয় অবশ্যম্ভাবী বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংস্কার না করে নির্বাচন চেয়েছে বিএনপি
মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সংস্কার করে তারপর নির্বাচন। কিন্তু বিএনপি সংস্কার না চেয়ে দ্রুত নির্বাচন চেয়েছে। বিএনপি দেখেছে, এ সংস্কার করলে তাদের ক্ষতি হবে, তাই তারা আগে নির্বাচন চেয়েছে। যদি সংস্কার হতো, তাহলে ঋণখেলাপি ও কালো টাকার মালিকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারত না। পুরাতন সিস্টেম থাকলে পুরাতন দলেরই সুবিধা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত সিস্টেম পরিবর্তন না করা যাবে, ততদিন নতুন রাজনীতির উত্থান সম্ভব নয়।
মাঠে কাজ করার আহ্বান
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম বাদল। তিনি বলেন, আমাদের মাঠে কাজ করতে হবে। আমাদের অনেক কিছু কাকতালীয়ভাবে হয়ে গেছে, এটা ভালো। কিন্তু কাজ না করলে আমরা এর ফল পাব না। আগামী দিনে আমাদের জন্য সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমন সম্ভাবনা নেই এমনও রয়েছে। সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে আমাদের কাজ করতে হবে এবং দলকে গ্রামে গ্রামে পরিচয় করাতে হবে।
কর্মশালায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টি ফেনী জেলা শাখার সিনিয়র আহ্বায়ক ও কর্মশালা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আফলাতুন বাকী। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব প্রভাষক ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী শাহ আলম বাদল ও জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—যুগ্ম সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম কামরুল, অর্থ সম্পাদক মাষ্টার শাহ আলম শাহীন সুলতানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক নাজরানা হাফিজ অম্লান, সহ-দপ্তর সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর লিটন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবি সিদ্দিক, সদস্য আহমেদ আলী নয়ন, সাইদুল হক মিলন, কাজী শরিফ উদ্দিন দীপ্ত, হাজী নিজাম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম খান, জোহরা আক্তার ডলি, সদর আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবু সাইদ খান, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শফিউল্লাহ পারভেজ, সদস্যসচিব ইব্রাহিম সোহাগ, ছাত্র পক্ষ ফেনী জেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বেলাল হোসাইন রাফসানসহ দলের বিভিন্ন ইউনিটের দুই শতাধিক নেতাকর্মী।



