অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য
অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও ৭ সাক্ষী

চট্টগ্রামে দুদকের মামলায় আরও সাত সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় আরও সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। এর আগে গত ২১ এপ্রিল একই মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।

দুদকের পক্ষ থেকে সাক্ষী উপস্থাপন

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মঙ্গলবার দুদকের পক্ষ থেকে ৭ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৫ মে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

অভিযোগপত্রের বিবরণ

দুদকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। ওই লাইসেন্স ব্যবহার করে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করে। নেতিবাচক প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণের অর্থ পরে আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। এরপর অর্থ নগদে উত্তোলন করে বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।

পাচার করা অর্থের ব্যবহার

অভিযোগে আরও বলা হয়, পাচার করা অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে সমন্বয় দেখানো হয়।

মামলার প্রক্রিয়া

এর আগে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী, ভাই, বোন এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।