ভৈরবে মাদকবিরোধী অভিযানে নারী কারবারি গ্রেফতার, দুই ক্রেতা আটক
ভৈরবে মাদকবিরোধী অভিযানে নারী কারবারি গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শহরের পঞ্চবটি এলাকা, যা মাদক কেনাবেচার স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত, সেখানে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় মাদককারবারি লতিফা বেগমের (৫৮) বাসা থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানের বিবরণ

মঙ্গলবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পঞ্চবটি এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ইয়াবাসহ হাতেনাতে লতিফা বেগমকে আটক করা হয়, তবে তার ছেলে সাদ্দাম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। একই বাসা থেকে মাদকের ক্রেতা জিহাদ (১৯) ও জাকির হোসেনকে (২৬) তিন পিস ইয়াবা ও পাঁচ পুরিয়া গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাদের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আনা হয়।

আটকদের আকুতি

খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা ভূমি অফিসে উপস্থিত হন। তখন লতিফা বেগম ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাতজোড় করে বলেন, 'স্যার, আমার দুই ছেলে ও স্বামী আক্কাছ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার করে। ব্যবসাটি অনেক লাভজনক। প্রতিটি ইয়াবা ১৫০ টাকায় কিনে আড়াইশ টাকায় বিক্রি করে। আমি ব্যবসায় জড়িত নই, ছেলে ও স্বামী মাদক ব্যবসা করে। তাই আমাকে জেল দিয়েন না।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আটককৃত মাদকের ক্রেতা জাকির হোসেন (২৬) চিৎকার করে বলেন, 'আমি মাদক সেবন করি, আমার দুটি সন্তান আছে। স্যার, আমি আর কখনো মাদক সেবন করব না। আমাকে সাজা দিয়েন না। আমি জেলে গেলে আমার বউ পোলাপান না খেয়ে মরবে। আমি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই।' এসব কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আরেক আটককৃত জিহাদ (১৯) বলেন, 'স্যার, মাদক না সেবন করলে চলতে পারি না, শরীর কাঁপতে থাকে। এ নেশায় আমার জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করি। আমাকে ছেড়ে দেন। আর কখনো মাদক সেবন করব না।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনের রায়

তাদের আকুতি-মিনতি সত্ত্বেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তাদের সাজা থেকে রেহাই দেননি। মাদক ব্যবসা ও সেবন উভয়ই অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। তাই মাদক ব্যবসায়ী লতিফা বেগমকে ছয় মাসের সাজা ও আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাদক সেবনকারী জিহাদকে এক মাসের সাজা ও এক হাজার আটশ টাকা জরিমানা এবং জাকির হোসেনকে ১৫ দিনের সাজা ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের বক্তব্য

ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, 'ভৈরবের পঞ্চবটি এলাকাটি মাদক কেনাবেচার বৃহৎ স্থান। এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক বেচাকেনা হওয়ার অভিযোগ আছে। আজ সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা প্রতিদিন অভিযান করছি এবং মাদক প্রতিরোধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।' তিনি আরও বলেন, 'আটককৃত লতিফা বেগম মাদকের বড় ডিলার। তার ছেলেরা ও স্বামী ব্যবসায় জড়িত। আজ হাতেনাতে মাদকসহ তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাসায় মাদকসহ দুইজন ক্রেতাকে পাওয়া যায়।'

ম্যাজিস্ট্রেটের মন্তব্য

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিজুল হক জানান, 'আজকের অভিযানে আমি উপস্থিত ছিলাম। আটককৃত তিনজনই মাদককারবারি ও সেবনকারী। আইনের কাছে মানবিকতা ও আকুতির কোনো মূল্য নেই। অপরাধীকে শাস্তি দিতেই হবে। মাদকের কারণে সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই মাদকের অভিযান চলবে। তিনজনই অপরাধী বলে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।'