কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রি গ্রেপ্তার
পীর হত্যা মামলায় আসামি রাজীব মিস্ত্রি গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিবরণ

গতকাল রাতে র‍্যাব-১২–এর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। রাজীব মিস্ত্রি পীর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি। তাঁর বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকায়। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

এ নিয়ে এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত একজন আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। রাজীবকে আজ শুক্রবার দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হবে বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযানের বর্ণনা

র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানান, পীর হত্যা মামলার পর থেকেই র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলার আসামিদের ধরতে তৎপর হয়। গতকাল সন্ধ্যায় র‍্যাব-১২–এর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন আসামি রাজীব মিস্ত্রি রাজশাহী গোদাগাড়ির থানা রোডের একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব-৫–এর সদর কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে একটি যৌথ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে রাজীব মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করে।

পলাতক অবস্থা

র‍্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, রাজীব ঘটনার দিন থেকেই পলাতক ছিলেন। তিনি প্রথমে পাবনায় অবস্থান করেন। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। তিনি এই সময়ে একাধিক সিম ব্যবহার করেছেন, কখনো অন্য কারও ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় গোদাগাড়ি থানা মোড়ের এলাকায় একটি সেলুনে চুল কাটাতে যান তিনি। গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট

দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ–পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগে গত ১১ এপ্রিল তাঁকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ১৩ এপ্রিল শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারে চারজনের নাম–পরিচয় উল্লেখ করা হয়। এতে প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয় স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। অন্য তিনজন হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, রাজীব মিস্ত্রি ও ইসলামপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।