চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নামে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই স্লোগান ব্যবহার করে একটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে কার্ড তৈরি করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি উঠেছে এক নারী জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে, যিনি শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত।
ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ও অভিযোগের বিস্তারিত
ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই অভিযোগটি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, জেসমিন বেগম আদায় করা টাকা আত্মসাত্ করে নেওয়ার শঙ্কায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গোলাম রাব্বানী টিটো, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম এবং গোলাম জাকারিয়া সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগ অনুযায়ী, জেসমিন বেগম ‘মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করার পর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে একটি দুস্থ কার্ড চালু করেন। তিনি ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানানো হয়েছে।
টাকা আদায়ের পদ্ধতি ও পরিমাণ
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় যে, জেসমিন বেগম ধাইনগর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে তার কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসে কার্ডপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের কাছে থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় করেছেন। এছাড়াও, ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার নামে আলাদা করে ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, বিষয়টি জানার পর জেসমিন বেগমের ট্রেড লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে এবং গত ৬ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
প্রশাসনের তদন্ত ও উত্তেজনাকর ঘটনা
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল তদন্ত করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ডাকা হলে জেসমিন বেগম সেখানে ৩০০ নারীকে নিয়ে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন এবং ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেসমিন বেগম ও মাসকুরা ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া ও অনুপস্থিতি
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জেসমিন বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার স্থানীয় সহযোগী ‘মেদুল বাবু’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এই অনুপস্থিতি ঘটনাটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন যে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



