কুমিল্লায় পুলিশ সুপারের ভুয়া আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নামে জারি করা মিথ্যা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতারকৃতরা কারা?
গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুমিল্লা মহানগরীর ২২ নং ওয়ার্ডের শ্রীমন্তপুর এলাকার বাবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন পারভেজ (৩২) এবং বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কলাতলা গ্রামের মো. ইশারত শেখের মেয়ে সোনিয়া আক্তার (২৮)।
সংবাদ সম্মেলনে যা জানানো হয়
বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ৩১ মে একটি অনলাইন ব্লগসাইট এবং ‘প্রতিবাদী জনতা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের নামে একটি আদেশ ভাইরাল করা হয়, যাতে কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। ওই আদেশটি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন ছিল এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১ জুন একই ব্লগ ও সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রভাবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার আদেশ বাতিল হয়েছে বলে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত সোনিয়া আক্তার ও আনোয়ার হোসেন পারভেজকে গ্রেফতার করে।
মামলা ও জব্দকৃত ডিভাইস
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দেবনাথ আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করার পর আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ, সরকারবিরোধী ও রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব প্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় এই চক্রের আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ প্রমুখ।



