রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, বস্তির এক বাসিন্দার সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হওয়া বিরোধের ধারাবাহিকতায় ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। পরে সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তিতে।
ঘটনার বিবরণ
গত ২৫ মে রাতে কালশী বস্তিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় কয়েকশ পরিবারের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল। পরনের কাপড় ছাড়া অনেকের কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি।
ক্ষয়ক্ষতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বস্তিটিতে এক হাজারের বেশি ঘর ও দোকান ছিল। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আশপাশের কিছু স্থাপনা রক্ষা পেলেও অধিকাংশ ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেককেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে হয়।
অভিযুক্ত গ্রেফতার
পুলিশ জানিয়েছে, পল্লবীর কালশী বস্তির এক দোকানদারের সঙ্গে স্থানীয় যুবক নাজমুল হাসানের ঝগড়া হয়। ওই সময় নাজমুল অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।
মামলা ও জিজ্ঞাসাবাদ
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বস্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। মামলায় নাজমুল হাসান মনি (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অগ্নিসংযোগের কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া এ ঘটনায় কিছু আলামত ও প্রমাণও পাওয়া গেছে। ওসি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে নাজমুল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।



