প্রতারক নাইম গ্রেপ্তার: ডিসি-এসপি পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন
প্রতারক নাইম গ্রেপ্তার: ডিসি-এসপি পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন

নিজেকে কখনও জেলা প্রশাসক (ডিসি), কখনও পুলিশ সুপার (এসপি), আবার কখনও থানার ওসি পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাইম হোসেন (২৮) নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (৩ জুন) তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার প্রতারকের পরিচয়

গ্রেপ্তার নাইম হোসেন বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার নামা পোওতা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার বাবুর ছেলে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৩৪টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

প্রতারণার কৌশল

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে এক হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন নাইম। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবনের ফলে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা এড়াতে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হলে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী নগদ অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই কৌশলে গত ৩০ মে তিনি নিজেকে সিআইডির এক পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে অপর এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ তুলে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও গ্রেপ্তার

এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে বগুড়ার আদমদিঘীর সান্তাহার এলাকা থেকে নাইম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, তিনটি সচল সিমসহ মোট ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

দীর্ঘদিনের প্রতারণা

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নাইম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পুলিশের সতর্কবার্তা

নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।