রংপুরের পীরগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ পাম্পের ট্রান্সফর্মার চুরির সময় মফিজার রহমান নামের এক কৃষককে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) রংপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস অভিযানিক দল দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা
রোববার (২৪ মে) বিকেলে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তাররা হলেন- গাইবান্ধা পলাশবাড়ি চকবালা গ্রামের জামিরুল ইসলাম (৩২), বাঁশকাটা গ্রামের নুরুল আমিন (৬৮), বেড়াডাংগা গ্রামের আমিরুল ইসলাম সরদার (৫৫), গোবিন্দগঞ্জ পুরন্দুর গ্রামের সবদুল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪), সাদুল্ল্যাপুর কাবিলপুর সোনাতলা গ্রামের আনিছুর রহমান (৪০), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আমলাপুকুর গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮) ও বগুড়ার মোকামতলা এলাকার আব্দুল ওয়াহাব ওরফে শফিকুল।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সুপার জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের কৃষক মফিজার রহমান প্রতিদিনের মতো রাতে নিজের সেচঘরে বিএডিসি’র সেচ ট্রান্সফর্মার পাহারা দিতেন। গত ৭ মে সকালে ওই সেচঘর থেকে তার পা বাঁধা রক্তাক্ত ও নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা সেচ পাম্পের ট্রান্সফর্মার চুরি করার সময় মফিজার রহমান বাধা দিলে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হলে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
অভিযান ও উদ্ধার
অভিযানে শনিবার রংপুরের বিভিন্ন স্থানকে ৭ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসপি মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে আসামিরা পুলিশের কাছে মফিজার রহমানকে হত্যাসহ ট্রান্সফর্মার চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, সিএনজি, ট্রান্সফর্মার চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং তিনটি ট্রান্সফর্মারের ভিতরে থাকা তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
তিনি আরও বলেন, কৃষক মফিজার রহমান হত্যাটি ছিল রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস। জেলা পুলিশের চৌকস আভিযানিক দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও চুরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেছে। সকল ধরনের অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।



