সরকারি চাকরিতে বদলি-পদায়নের নামে প্রতারণা, ডিবির হাতে গ্রেফতার ২
চাকরিতে বদলি-পদায়নের নামে প্রতারণা, ডিবির হাতে গ্রেফতার ২

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও নিলুফা সুলতানা (৫৬)। এর মধ্যে নিলুফা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী।

প্রতারক চক্রের কৌশল

ডিবি জানিয়েছে, প্রতারক চক্র নিজেদের কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কখনও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক মহলের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও তদন্ত

অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে এম আনিসুর রহমান শান্ত নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে চক্রের আরেক সদস্য নিলুফা সুলতানার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখা-২ এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য

শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়ন নিয়ে কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।” ডিবি প্রধান বলেন, “আমরা প্রায় ২০ থেকে ২২ পৃষ্ঠার বিভিন্ন কথোপকথনের তথ্য পেয়েছি। সেখানে দেখা গেছে, তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কোথায় পদায়ন করে দিলে কত টাকা দেওয়া যাবে এ ধরনের কথাবার্তাও রয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তদন্তে যেই জড়িত থাকুক না, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে।