অপরাধ জগতে নতুন মোড় নিয়েছে ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যিনি মন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বদরপুর গ্রামে। পিতার নাম আবদুর রশিদ। নিজের কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও তিনি বিত্তশালীর মতো চলাফেরা করেন।
প্রতারণার পদ্ধতি
ইকবালের মূল আয়ের উৎস হলো মন্ত্রী, সচিব ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলে তাদের নাম ভাঙিয়ে তদবির বাণিজ্য করা। তিনি নিজের অনেক ক্ষমতা আছে বলে জাহির করে বিভিন্ন সরকারি কাজ তদবির করে পাইয়ে দেওয়া, চাকরির বদলি ও চাকরি দেওয়ার নাম করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। অভিযোগ উঠেছে, তার এই প্রতারণার উত্থান ঘটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর। তিনি যেন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো প্রতারণার 'লাইসেন্স' পেয়ে গেছেন।
সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার
ইকবাল জনি নামের তার ফেসবুক আইডিতে তিনি নিজেকে 'ক্ষমতাবান' হিসেবে জাহির করেন। বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন।
ভুক্তভোগীর বিবরণ
রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার এক ভুক্তভোগী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) যুগান্তরকে জানান, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি তার এক ঘনিষ্ঠজনকে ব্যক্তি উদ্যোগে খাল খননের কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একজন রাজনীতিবিদ (বর্তমানে মন্ত্রী) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান কেএম আবু তাহেরের নামে নগদ ১ লাখ টাকা দেন। এরপর থেকে ইকবাল নানা ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেন। গত ৭ মাস ধরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও তিনি টালবাহানা করে যাচ্ছেন।
ওই চাকরিজীবীর মতো আরও বহু মানুষ ইকবালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, প্রতারণার একপর্যায়ে তিনি ভাড়ায় নেওয়া বাসাও ঘনঘন পাল্টান। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায় বসবাস করছেন।
ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য
ইকবালের ঘনিষ্টরা জানান, তার কোনো চাকরি বা ব্যবসা নেই। তিনি মূলত বিভিন্ন মন্ত্রী, সচিব, রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে চলেন। তিনি মানুষকে বলেন, মন্ত্রী, সচিব, রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে তদবির করে কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কবির নামে তার এক বন্ধু যুগান্তরকে বলেন, 'কী বলব ভাই, আমি নিজেও ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। টাকা ফেরত দিচ্ছে না।'
ইকবালের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এনডিপি চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে এনডিপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। ইকবালের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে জানান, তিনি ইকবালকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং ইকবাল তার দলের একজন কর্মী। তবে ইকবালের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহের বলেন, 'এ ধরনের কোনো লেনদেনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কেউ যদি আমার নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমি কঠোর ব্যবস্থা নেব।'



