ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি করিয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও নিলুফা সুলতানা (৫৬)। ডিবি জানায়, নিলুফা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা–২ অধিশাখার এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
প্রতারণার পদ্ধতি
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, নিলুফার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের নামে প্রতারণা করে আসছিল। চক্রের সদস্যরা নিজেদের কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কখনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। প্রতারণার জন্য তারা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছিলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসানের দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে ডিএমপি কমিশনার বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে।
তদন্ত ও প্রমাণ
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। ২০ মে রাতে পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে আমিনুরকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্লেষণ করে নিলুফার তথ্য পাওয়া যায় এবং তাকেও আটক করা হয়।
আমিনুর ও নিলুফার মুঠোফোনসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়ন নিয়ে কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ, সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
রাজধানীর রমনা থানায় আমিনুর ও নিলুফার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। ডিবি জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে এবং তদন্তে জড়িত প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



