বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বিতর্কিত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে আবারও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পদোন্নতি ও স্থগিতকরণ
মিজানুর রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তাকে পদোন্নতি দিয়ে পরিচালক, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা করা হয়। পরে সেটি স্থগিত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ বিমানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, সোমবার (১৮ মে) তাকে পদোন্নতি দিয়ে পরিচালক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ ও সমালোচনার মুখে পড়ে পদোন্নতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। তিনি আরও বলেন, “পদোন্নতির চিঠিটি ইস্যু করা হলেও মঙ্গলবার (১৯ মে) স্থগিতের চিঠি ইস্যু করা হবে। তবে তার পদোন্নতি স্থগিতের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
অভিযোগ ও বিভাগীয় মামলা
জানা যায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, কিন্তু দুদক বিষয়টি নিয়ে এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝেই মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চপদ।
পারিবারিক প্রভাব
অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী পক্ষের তদবিরেই মিজানুর রশীদ এসব দায়িত্ব পেয়েছেন। সূত্র আরও জানায়, মিজানুর রশীদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিমানের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা এবং এক ভাইও বিমানে চাকরি করতেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার (টিএ-ডিএ) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।
দুদকের অনুসন্ধান
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার তথ্য চাওয়া হয়। তবে এই বিষয়ে বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।



