রামেবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুদকে সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ
রামেবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুদকে সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুদক সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগটি দেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধোপাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ও ঠিকাদার আব্দুল হান্নান।

অভিযোগের বিবরণ

অভিযোগে বলা হয়, অধ্যাপক জাওয়াদুল হক কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক। তিনি কখনো প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেননি, চেম্বার করে রোগী দেখেননি। তার স্ত্রী গৃহিণী। অথচ তিনি মোটা অংকের টাকা খরচ করে দুই ছেলেকে ডাক্তারি পড়িয়েছেন। তার ও তার স্ত্রীর নামে রাজশাহী ও ঢাকায় রয়েছে অঢেল সম্পত্তি।

অভিযোগে সম্পদের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়: রাজশাহীর উপশহর হাউজিং স্টেটের ৩ নম্বর সেক্টরের ২৪ নম্বর বাসায় পাঁচতলায় এ ও বি ফ্ল্যাট দুটি, চন্দ্রিমা আবাসিকের ৩ নম্বর রোডে ১১৮/৭ নম্বর ছয়তলা বাড়ি, রামেবি সংলগ্ন বাজে সিলিন্দা ও বারুইপাড়া মৌজায় ১৫ কাঠা জমি, বনলতা এলাকায় যৌথ মালিকানায় প্লট এবং ঢাকার মিরপুর-১৩-তে বিজয় র্যাকিন সিটির ৫ নম্বর ভবনে একটি ফ্ল্যাট। এছাড়া নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভিসি হওয়ার পর থেকে অবৈধ নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. জাওয়াদুল হক। এর ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি মানসম্মত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভিসির বক্তব্য

অভিযোগ প্রসঙ্গে ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, "অভিযোগকারী আব্দুল হান্নানকে আমি চিনি না। তিনি কেন অভিযোগ করেছেন, আদৌ অভিযোগ করেছেন কিনা সেটিও বলতে পারব না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী অভিযোগ

এর আগে গত মার্চে প্রায় ৭৭৭ কোটি টাকার ছয়টি প্যাকেজের নির্মাণ কাজ দিতে জেনিট করপোরেশন নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯ শতাংশ ঘুস চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি আনজা করপোরেশন লিমিটেড নামের আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ করেছে।

গত ২২ এপ্রিল রামেবি রেজিস্ট্রারকে দেওয়া চিঠিতে আনজা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মু. আনিসুজ্জামান বলেন, লিথো ও ওএমআর পেপার ক্রয়ের দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি ইজিপি থেকে জানতে পেরেছেন, প্রতিবার যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয় তাদেরই এবার সর্বোচ্চ দরে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অন্যদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করেছে। তিনি বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ জানান।

ভিসি এ প্রসঙ্গে বলেন, "আনজা করপোরেশন ইজিপি সিস্টেমে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। তাই তারা কাজ পায়নি। কাজ না পাওয়ার কারণে এমন অভিযোগ তুলেছে। সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনেই খাতা কেনা হচ্ছে।"

দুদকের অবস্থান

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল বারী বলেন, "মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অনিয়মের বিষয়ে আমরা আগেই অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে কমিশনে পাঠানো হয়েছে; কিন্তু এখন কমিশন নেই। এ কারণে এখনও অনুমোদন হয়নি। নতুন অভিযোগ হলে সেটিও কমিশনে অনুমোদনের পর আমাদের কাছে আসবে। প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদন হয়ে এলেই আমরা অনুসন্ধান শুরু করব।"