দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ ঘিরে সাবেক দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং তাদের স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ সোমবার (১৮ মে) নথি জব্দের এ নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনার বিবরণ
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মিনহাজ বিন ইসলাম আদালতে আবেদন করেন। আয়কর নথি জব্দের তালিকায় রয়েছেন- সাবেক শিল্পমন্ত্রীর স্ত্রী, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী এবং সাবেক এমপি এনামুল হক ও তার স্ত্রী।
তদন্তের স্বার্থে এসব নথি ২০০৮-২০০৯ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে জব্দ করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। একই দিনে পৃথক তিনটি মামলায় এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
প্রথম মামলা: সাবেক শিল্পমন্ত্রীর স্ত্রী
প্রথম ঘটনায়, সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের স্ত্রী নাদিরা মাহমুদের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে শুরু থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি জব্দের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
দ্বিতীয় মামলা: সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী
দ্বিতীয় ঘটনায়, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিনের ২০০৮-২০০৯ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৩১টি ব্যাংক হিসাবে শত কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগেও মামলা চলমান।
তৃতীয় মামলা: সাবেক সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী
তৃতীয় ঘটনায়, সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক এবং তার স্ত্রী তহুরা হকের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, এনামুল হকের বিরুদ্ধে প্রায় ২৩ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের বক্তব্য
দুদক জানিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন ও স্থানান্তরের প্রমাণ খুঁজতেই এসব আয়কর নথি জব্দ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট তিনটি মামলাই বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।



