জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানকে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনে তিনি আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বক্তব্য
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় আক্কেলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। এ সময় তাঁর বড় ভাই দারাজ উদ্দিন, মেজ ভাই দুলাল উদ্দিন, প্রতিবেশী গাজিউল ইসলাম ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক বলেন, রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ১৫ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন উপলক্ষে অভিভাবকদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দুজন পুরুষ ও দুজন নারী অভিভাবক সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। এর কয়েক দিন পর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে তাঁর পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, ২১ জুন বেলা আড়াইটার দিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ কয়েকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা নির্বাচনের কাগজপত্র দেখতে চান এবং সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এতে তিনি আপত্তি জানালে এক পর্যায়ে হারুনুর রশিদ পায়ের জুতা খুলে তাঁর গালে আঘাত করেন। এ সময় তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপমানজনক। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। ঘটনার পর চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি ২২ জুন আক্কেলপুর থানার ওসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও দিয়েছি। আমাকে ঘটনাটি আপসরফা করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার বক্তব্য
বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কিছু অভিভাবকের আপত্তি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা বা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।’
প্রশাসনের অবস্থান
আক্কেলপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক থানায় দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের অনুলিপি আমাকে দিয়েছেন। যেহেতু ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক থানায় অভিযোগ দিয়েছেন, সেহেতু এখানে আমার করার কিছু নেই।’
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



