বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ শুক্রবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা কারা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেলে আদাবরের নবোদয় হাউজিং থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন শোয়েব, আরমান ও নয়ন।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা আরও বলেন, স্বজনেরা আবুল বাশারের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে গেছেন। সেখান থেকে ফিরে তাঁরা আদাবর থানায় হত্যা মামলা করবেন। সেই মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এ ছাড়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ হত্যার ঘটনায় চারজন ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিল। এ সময় হাবিব নামের এক ব্যক্তি নীরব নামের এক যুবককে মারধর করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ঘটনার জেরে পরদিন আদাবর ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নবোদয় হাউজিং বাজার এলাকায় গিয়ে নীরবকে আবার মারধর করেন। তাঁর বিরুদ্ধে নীরবকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
সালিস ও হামলা
গত বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারে হাবিবের কার্যালয়ে সালিস বসে। সালিস শেষে সাদ্দাম ও তাঁর সমর্থকেরা নীরব ও তাঁর বড় ভাই রিপনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. সাদ্দাম ও আদাবর ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার (বাদশাহ) আহত হন। আহত দুজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা আরও বলেন, বুধবারের হামলার ঘটনার আগেই সাদ্দাম আদাবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
নিহতের পরিচয়
স্বজনেরা জানান, আবুল বাশার পেশায় একজন প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। তিনি আদাবর বি–ব্লকে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এদিকে, আটক চারজনকে নিয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানিয়েছে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ।



