পাবনার চাটমোহরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ আহত
চাটমোহরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৮ আহত

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর বাজারে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর পর্যন্ত পাওয়া খবরে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংঘর্ষের পটভূমি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমান গ্রুপের মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি সভা করছিলেন বাবলুর রহমান গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ সময় সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাবলু গ্রুপের নেতারা। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহতদের পরিচয়

আহতদের মধ্যে রয়েছেন হরিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বাবলুর রহমান (৪৮), ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (৪০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ (৫৭), এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত হোসেন (২৫)। আহতদের মধ্যে বাবলু গ্রুপের পাঁচজন এবং সিরাজ গ্রুপের তিনজন রয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালে চিকিৎসা

আহতদের চাটমোহর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবলুর রহমান বলেন, 'আমরা দলীয় ও দেশ প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশে নিজেদের এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। এটা সহ্য করতে পারছেন না ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে আমাদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে আমাদের বাধার সৃষ্টি করে আসছেন। তারা হরিপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার প্রতিবাদ করায় তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের শান্তিপূর্ণ সভায় সিরাজের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা করা হয়।'

সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'আমার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ ঘটনার সময় হরিপুর বাজারেই ছিলাম না। পরে শুনেছি এলাকার কিছু দলীয় লোকের সঙ্গে তাদের আগের ঝামেলার রেশ ধরে মারামারি হয়েছে। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখন সবাই বিএনপি করে। তাদের মধ্যে আমার সমর্থক লোকজন থাকতে পারে।'

পুলিশের অবস্থান

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান জানান, 'বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারির বিষয়টি আমরা জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি ও আহতদের সাথে কথা বলেছি। তাদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'