নারায়ণগঞ্জে ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: তিন নেতা গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন জন আহতের ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি-সম্পাদকসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার হোটেল গ্র্যান্ড সাফা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন (৫০), সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম জসিম (৪৯) ও লিয়ন মাহমুদ আকাশ (২২)। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী।
পুলিশের বক্তব্য
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে কুয়াকাটার হোটেল গ্র্যান্ড সাফাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।’ নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও জানান, ‘তিন জন এজাহারনামীয় পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’
ঘটনার পটভূমি
গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার দখলকে কেন্দ্র করে গত ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ‘স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ গার্মেন্টসের সামনে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে পথচারীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ এবং একজন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।
আহতদের অবস্থা
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন- পথচারী মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ ইমরান (১০) ও রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২২)। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাকিব ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খোকার ছেলে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. রফিক (৪০)। তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার বিবরণ
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রাকিবের বাবা মোহাম্মদ হোসেন খোকা বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদল নেতা সারজিল আহমেদ ও জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পুলিশের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।



