বিএনপি সমর্থকের দীর্ঘ ১৭ বছর অনশনের অবসান
নিজের প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না—এমন কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কিশোরগঞ্জের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ ইনু মিয়া। অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। পহেলা বৈশাখের বিকেলে ইনু মিয়ার মুখে নিজ হাতে ভাত তুলে দিয়ে তার প্রতিজ্ঞা ভাঙান সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
একনিষ্ঠ সমর্থকের ত্যাগের গল্প
কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের বাসিন্দা ইনু মিয়া একজন একনিষ্ঠ বিএনপি সমর্থক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার পর তিনি এই অনশন শুরু করেন। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে তিনি ভাত স্পর্শ করেননি; এই দীর্ঘ সময় কলা, রুটি, বিস্কুটসহ শুকনা খাবার খেয়ে কোনোমতে জীবন ধারণ করেছেন। ইনু মিয়ার এই ত্যাগের কথা এলাকায় মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।
প্রতিমন্ত্রীর আবেগঘন পদক্ষেপ
মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইনু মিয়ার বাড়িতে হাজির হন। সেখানে তিনি প্রিয় নেতার হাত থেকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ভাত গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দলকে ভালোবেসে ইনু মিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা অনন্য। তার এই প্রতীকী প্রতিবাদ আমাদের অনুপ্রাণিত করে।' এ সময় প্রতিমন্ত্রী ইনু মিয়াকে একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া এবং বয়স্ক ভাতার কার্ড নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
জীবনযাত্রা ও পরিবারের বক্তব্য
পেশায় একসময় কৃষি শ্রমিক থাকলেও বর্তমানে বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইনু মিয়া কর্মক্ষমহীন। স্ত্রী জোছনা খাতুন জানান, আত্মীয়-স্বজনরা অনেক চেষ্টা করেও গত ১৭ বছর তাকে ভাত খাওয়াতে পারেননি। তার কেবল একটাই কথা ছিল—দল ক্ষমতায় না এলে তিনি ভাত খাবেন না। অবশেষে সরকারের দায়িত্ব পাওয়ার পর নেতা নিজেই এসে কর্মীর সেই অভিমান ভাঙালেন।
এই আবেগঘন মুহূর্তে প্রতিমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ। ইনু মিয়ার এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দলীয় আনুগত্য ও ত্যাগের একটি জীবন্ত উদাহরণ তৈরি করেছে।



