বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার লঙ্ঘন করেছে: জামায়াত আমিরের তীব্র অভিযোগ
বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহার লঙ্ঘন করেছে: জামায়াত আমির

বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার লঙ্ঘন করেছে: জামায়াত আমিরের তীব্র অভিযোগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তপ্ত বিতর্কের সূচনা হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক দলীয়করণ করেছে।

মতবিনিময় সভায় তীব্র অভিযোগ

রোববার (১২ এপ্রিল) ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, "গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, দুদক, পিএসসি অধ্যাদেশসহ যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বিএনপি গায়ের জোরে ফেলে দিয়েছে।"

সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘটনা

জামায়াতের আমির আরও বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "যখনই বিএনপি সরকার গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ, দুদক অধ্যাদেশ, পুলিশ অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল করেছে, আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে ঘৃণার সঙ্গে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, "ফ্যাসিবাদের পক্ষে বিএনপি দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়ায় আমরা এক মুহূর্তের জন্যও সংসদে থাকিনি। সংসদে টু-থার্ড ক্ষমতাবলে বিএনপি গায়ের জোরে কাজ করছে।"

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ

ডা. শফিকুর রহমানের মতে, বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দলীয়করণ করেছে, যা তাদের নিজস্ব নির্বাচনি ইশতেহারের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করে বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের প্রতি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জুলাই সনদকে সরকার উপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের প্রথম গণভোটও সংবিধানে ছিল না। সংবিধান যদি জনগণের জন্য হয়, তবে জনগণের ম্যান্ডেট মেনেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে।"

তিনি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা দেন: "আগামীতে চূড়ান্তভাবে পরাজয় হবে ফ্যাসিবাদের, বিজয় হবে জনগণের। সেই চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

  • সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
  • বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
  • স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টার অভিযোগ

জামায়াতের আমির আরও অভিযোগ করেন, "অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেই জায়গাগুলোই বিএনপি এখন রেখে দিতে চায়। এর মাধ্যমে বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, যা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।"

তিনি জুলাই যোদ্ধাদের সংকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "এক পা কেটে ফেলার পরও জুলাই যোদ্ধার অনুভূতি ছিল- 'প্রয়োজন হলে পুরো শরীরই দেবো! কিন্তু জুলাই কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেবো না।'"