পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা হত্যা: বিএনপি নেতার ফেসবুক পোস্টে উত্তেজনা
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় ইমরান হোসেন সোহাগ নামে এক ছাত্রদল নেতাকে হত্যার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর একাধিক ফেসবুক পোস্ট উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটার পর পিন্টু তার ফেসবুক পাতায় বেশ কয়েকটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে হুমকি ও উত্তেজনামূলক বক্তব্য
জাকারিয়া পিন্টু, যিনি শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আগস্ট মাসে খালাস পেয়েছিলেন, তিনি তার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, 'ঈশ্বরদীর রাজনীতির অভিশাপ নাড়া বাবলু পরিবার। ৯৩ সাল থেকে জ্বালাচ্ছে। নয় বার আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমাকে আর কিছু বলে দিতে হবে। আমি ডকুমেন্ট রেখে কথা বলি। ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে। ডু আর ডাই।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'একটা লাশের বদলে দশটা লাশ চাই। মাফিয়া হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখেই তো লড়েছি। তখনই তো মরে গেছি। আজ নির্যাতন, হত্যা।'
পিন্টু তার পোস্টে বলেন, 'যেহেতু আমি দেশের বাইরে। ঈশ্বরদী থানার সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকলো, উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। আর এই হত্যার বিরুদ্ধে যা যা করার প্রয়োজন তাই করবেন, আমি না আসা পর্যন্ত। এটা আমার অনুরোধ আর নির্দেশ।' তিনি ঈশ্বরদী থানার ওসির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, 'ফ্যাসিবাদের কোনও পুলিশকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। এটা আজকে আবার প্রমাণ করলো।'
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ
নিহত ইমরান হোসেন সোহাগ ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং ঈশ্বরদী উপজেলা 'জিয়া সাইবার ফোর্স'-এর সদস্যসচিব। তিনি পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ থেকে পৌনে ১১টার দিকে পৌর শহরের সাঁড়াগোপালপুর স্কুলের পাশে একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন সোহাগ।
এই সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহাগকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, নিহতের মাথায় ধারালো ও ভারী অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযান
পাবনা জেলা পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আনোয়ার জাহিদ বলেন, 'আমি এই মুহূর্তে ক্রাইমসিন নিয়ে কাজ করছি। পুলিশকে হত্যার হুমকি দিয়ে ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি দেখছি।' পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রেক্ষাপটে।
উল্লেখ্য, ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবীব ও জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ চলছে। গত ২৩ মার্চ দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। এই বিষয়ে জাকারিয়া পিন্টুর মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।



