পাবনায় বিএনপির সংঘর্ষে তিন সদস্য বহিষ্কার, দুইজনের মৃত্যু
পাবনায় বিএনপি সংঘর্ষে তিন সদস্য বহিষ্কার

পাবনায় বিএনপির সংঘর্ষে তিন সদস্য বহিষ্কার, দুইজনের মৃত্যু

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার পর দলটি তিন সদস্যকে বহিষ্কার করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃত সদস্যদের পরিচয়

বহিষ্কৃতরা হলেন সুজানগর উপজেলার ভিটবিলা ওয়ার্ড বিএনপির ইসলাম খান, চান্দু খান ও সান্টু খান। দলের মধ্যে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

এর আগে, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চায়না খাতুন (৪০), যিনি একই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। পরে আহতদের মধ্যে মুনছুর খাঁ (৬০) নামে আরও একজন মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ভিটবিলা গ্রামের মৃত জয়নাল শেখের ছেলে। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় দুইজনে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষের পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপ এবং ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি কর্মী ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার রাতে দুইপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরদিন সকালে পশ্চিমপাড়া এলাকায় একপক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং অপরপক্ষের লোকজনকে বাজারে যেতে বাধা দেয়। পরে প্রতিপক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি শুরু হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।

দলের প্রতিক্রিয়া

বিএনপি এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বহিষ্কার করেছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কোন্দল ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।