বিএনপি মহাসচিবের কঠোর বার্তা: রাডার ফিট করেছি, সোজা পথে চলতে হবে
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাস্তা হতে হবে একদম সিধে। মুই কিন্তু রাডার ফিট করছু। সবদিকে নজর আছে আমার। কে কী করছেন, সব জানি।" সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এই বার্তা দেন।
দলের অন্দরে শৃঙ্খলা ফেরানোর লড়াই
দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় এলেও বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব নেতাকর্মীদের রাশ টানতে মরিয়া। এদিন ফখরুলের গলায় ছিল স্বভাবসিদ্ধ কাঠিন্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের অন্দরে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। "একচুল এদিক-ওদিক হলে ক্ষমা করা হবে না। নেতৃত্ব তো যাবেই, নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থাও," বলেন তিনি।
বিশ্ব অর্থনীতি ও যুদ্ধের প্রভাব
একদিকে দলের শৃঙ্খলা ফেরানোর লড়াই, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন মির্জা ফখরুল। তার মতে, সামনে খুব একটা ভালো সময় নেই। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়বে, পাল্লা দিয়ে বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও। তিনি বলেন, "সেই কঠিন সময় সয়ে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।"
আইনের শাসন ও ধর্মের অপব্যবহার
তেল সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে মান্যতা দিলেও আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। পাম্প ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।"
এদিন ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করার প্রচেষ্টাকেও তীব্র আক্রমণ করেন বিএনপি মহাসচিব। কোনো দলের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, কিছু মানুষ মা-বোনদের ভুল বুঝিয়ে বেহেশতে নেওয়ার কথা বলে। "ধর্মকে ব্যবহার করা যায় না। এ দেশের মানুষ ধার্মিক, কিন্তু তারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। আমরা কাজ করতে এসেছি, কাজের মাধ্যমেই মানুষের সেবা করব," যোগ করেন তিনি।
কৃষি ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি
বিএনপি মহাসচিব কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি পালনের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষকদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। সারা দেশে কয়েক কোটি নারীকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার খাল খননের মেগা প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন মির্জা ফখরুল।
এদিনের কর্মসূচিতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



